
চট্টগ্রাম :: সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরত থাকার জন্য বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সংশোধন না হলে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন কাদের। খবর বাংলানিউজের।
রোববার নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে তোপের মুখে পড়েন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।
নাস্তার টেবিলে যাবার আগে কাদের ইমু ও রণিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজে এত সমস্যা কেন? আমি তো পত্রিকায় পড়ি। সেখানে মারামারি কর কেন?
জবাবে ইমু বলেন, নতুন ইউনিট। দুইটা কলেজ তো আমরা অনেক বছর পর উদ্ধার করেছি। এখানে এখনও কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি আছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ভুল বোঝাবুঝি আছে….তো, তোমরা মারামারি করবে কেন ? মুরব্বী আছেন মহিউদ্দিন ভাই। উনার কাছে আসবা, উনার সঙ্গে পরামর্শ করবা। নিজেরা মারামারি কর আর দোষ পড়ে নেতাদের। নেতারা কি তোমাদের মারামারি করতে বলেন ? নেত্রীর পরিস্কার মেসেজ আছে, দুই বছর পর নির্বাচন। এগুলো আমরা আর টলারেট করব না।
‘গত ১৫-১৬ বছর তো আমি ছাত্রলীগ ডিল করিনি। নেত্রী এখন বলছেন তুমি ছাত্রলীগটাকে একটু দেখ। সেজন্য আমরা ছাত্রলীগ ডিল করতে শুরু করেছি।’ বলেন ওবায়দুল কাদের।
চবি ছাত্রলীগ নেতা সুজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের তো অনেক সমস্যা। ছোট ছোট ঘটনা অথচ বড় করে মিডিয়াতে আসে। নিজেরা মারামারি করবা আর সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করবা, এটা আর মানতে পারব না।
এসময় সেখানে উপস্থিত পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে একটা-দুইটা ঘটনা ঘটাতে না পারলে মনে হয় স্যার ছাত্রলীগের ভাত হজম হয় না। ট্রেনের মধ্যে সিট নিয়ে কথা কাটাকাটিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারি হয়। অথচ এই কথা কাটাকাটি যদি শিবিরের সঙ্গে হত তাহলে মারামারিটা হত কিনা সন্দেহ আছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, টেন্ডার ভাগাভাগিতে ছাত্রলীগ যেন অংশ নিতে না পারে সেটা সবাই দেখবেন।
মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে ওবায়দুল কাদের জানতে চান নূরুল আজিম রণির কাছে। রণি বলেন, সাংগঠনিক ওয়ার্ড কমিটি গঠন বাকি আছে। সেগুলো করে ফেলার চেষ্টা করছি।
কাদের বলেন, ছাত্রলীগের ওয়ার্ড কমিটির দরকার কি? তোমরা করবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি।
চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের দায়িত্ব সেখানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দেন কাদের।
সূত্রমতে, নাস্তার টেবিলে বসে ওবায়দুল কাদের ঢাউস সাইজের চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি সরাসরি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চান। জবাবে সোহাগ বলেন, মেয়র নাছির ভাই (আ জ ম নাছির উদ্দিন) বড় আকারের কমিটি করতে বলেছেন।
এসময় ওবায়দুল কাদের নাছিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমিই তো নাকি কমিটি বড় করতে বলছ। আ জ ম নাছির বিষয়টি হেসে এড়িয়ে যান।
পরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ছাত্রলীগকে আর খারাপ খবরের শিরোনাম হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা এখন থেকে ছাত্রলীগের ভাল ভাল কথা শুনতে চাই। মাঝে মাঝে ছাত্রলীগে কিছু সমস্যা হয়। সেটা যাতে না হয় সেজন্য আমরা বসেছিলাম।
নাস্তার টেবিলে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূর ই আলম চৌধুরী মিনা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর চশমাহিলে মহিউদ্দিনের বাসায় যান কাদের। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে সড়পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
সিটিজিসিান.কম/রবি
Print This Post
