বাবুলের ‘অনাগ্রহ’ নিয়ে সন্দেহে মিতুর পরিবারে

আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ন

1466852140টগড়-৫,

অনলাইন ডেস্ক ::
আলোচিত মিতু হত্যা মামলার বিষয়ে স্বামী বাবুল আক্তারের ‘অনাগ্রহ’ নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে মিতুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও। তদন্ত সংস্থার অভিযোগ ছিল বাদী হয়েও বাবুল আক্তার এই মামলার বিষয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তিনি বাদী হয়েও এই মামলার তদবিরও করছেন না। নিজের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর রহস্যজনক কারণে তিনি শামুকের মতো নিজের ভেতরে গুটিয়ে রয়েছেন।

অথচ পুলিশ বাহিনীতে থাকাকালীন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি ছিল তার। বেশ কয়েকটি ‘ক্লুলেস’ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে চাকরিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছিলেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নীরব থেকে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়ে তদন্তকে আরো কঠিন করে তুলেছেন।

বাবুল আক্তারের এই নীরব ভূমিকায় তদন্ত সংস্থার আপত্তি থাকলেও মিতুর পরিবার এতদিন এ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে মেয়ে জামাইয়ের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিহত মিতুর পিতা মো. মোশাররফ হোসেন। তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির সহকারী কমিশনার (গোয়েন্দা- উত্তর) মো. কামরুজ্জামানের কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উভয়ের মধ্যে কথা হয়। এরপর উভয়ে আলাদাভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর মিতু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী নানা বিষয়ে কথা বলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। কিছুটা আবেগতাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এখনো কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাই না আমার মেয়েকে কেন হত্যা করা হলো। আমার মেয়ে চাকরিও করত না, ব্যবসাও করত না। কেউ তাকে টাকার জন্য মেরে ফেলবে এটাও বিশ্বাস করা যায় না। কারণ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। ওকে কেউ অতি উত্সাহী হয়ে মেরে ফেলতে পারে। আবার ভুল করেও মেরে ফেলতে পারে। এসব বিষয় তদন্ত হওয়া দরকার। মিতুর স্বামী বাবুল এই মামলার (মিতু হত্যা মামলা) বাদী।

কিন্তু সে কোনো তদবির করে না। এটা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সে দায়িত্ব পালন করছে না। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বাবুল কেন তদবির করে না। আমি তাকে বলেছি, এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বাবুল জানে। আপনারা তাকেই এটা জিজ্ঞাসা করুন। আমি মিডিয়ার কাছেও অনুরোধ করছি। আপনারা বাবুলকে জিজ্ঞাসা করুন কেন সে তদবির করে না। বাবুলের চাকরি ছাড়ার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আমার কাছে জানতে চান যে সে (বাবুল আক্তার) কি নিজের ইচ্ছায় চাকরি ছেড়েছে নাকি কেউ তাকে জোর করেছে। আমি বলেছি এই প্রশ্নের উত্তরও আমার জানা নেই। আমি বুঝতে পারি না বাবুল এটা সবার সামনে পরিষ্কার করছে না কেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, মিতুর ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি সক্রিয় রয়েছে। অথচ পুলিশ বলছে সেটি তাদের কাছে নেই। আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি মিতুর ফোনটা উদ্ধার করেন। তিনি বলেছেন, এটার বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কাজ করছে। আমাদের কিছু করার নেই।

মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামীর জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মোশাররফ হোসেন বলেন, মিতুর কাছ থেকে তাদের দাম্পত্য কোনো সমস্যার অভিযোগ কখনো পাইনি। আমরা কখনো চট্টগ্রামে আসিনি, এখানে থাকিনি। মিতু কখনো কোনো সমস্যার বিষয়ে আমার সঙ্গে শেয়ার করেনি। তবে তার মায়ের সঙ্গে কিছু শেয়ার করেছি কি না জানি না। মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুলের যদি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে অবশ্যই তা তদন্ত করা হোক। শুধু বাবুল নয় অন্য কেউও যদি জড়িত থাকে তাও তদন্ত করে দেখা হোক। আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি যেন এই মামলায় কোনো তড়িঘড়ি না করা হয়। মামলার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। এ পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি ভালো বলেই আমি মনে করি। কোনো বিষয়ে ‘তাড়াহুড়া’ না করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি।

কারণ মিতু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন ধরা পড়লেও মূল ‘পরিকল্পনাকারী’ মুসা ও অন্যতম আসামি কালু এখনো পলাতক। তারা ধরা পড়লে অনেক রহস্যের উদ্ঘাটন হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, মামলা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনার দিক থেকে বিষয়টা আমরা জেনেছি। তথ্যগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করা হবে। এই মামলায় নতুন কাউকে আসামি করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।

গত ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে রাজধানীতে তার শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ সময় বাবুলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়।

সিটিজিসা.কম/রবি

Print This Post Print This Post