স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম ::
আগামী বছরের শুরু থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসা আবারো পানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকদের পানির দাম ৩৩ ও ৪৮ শতাংশ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তারা।
দাম বৃদ্ধির এ হার চট্টগ্রাম ওয়াসার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। লোকসান কমাতে ও বিদেশী ঋণ পরিশোধে দাম বৃদ্ধির এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানান ওয়াসার এমডি। তবে গণশুনানি ছাড়া দাম বৃদ্ধির এমন উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো।
গেল কয়েকবছর ধরে ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়িয়ে আসছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। তবে এবার দাম বাড়ছে আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
ওয়াসা এরইমধ্যে সরকারের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সে অনুসারে আবাসিক খাতে দাম বাড়বে ৩৩ শতাংশ, আর ৪৮ শতাংশ অনাবাসিক খাতে। কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ১ হাজার লিটার পানির উৎপাদনে ১৫ টাকা খরচ পড়লেও গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে ৯ টাকা ২৭ পয়সা দরে। তাতে আর্থিক লোকসান কমানো ও বিদেশী ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত দাম বাড়ানো প্রয়োজন।
তবে ভোক্তার অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছে, কোনধরনের গণশুনানি ছাড়া এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া অযৌক্তিক।
অবশ্য ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবি, বর্তমানে পানি সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ বাড়তি পরিশোধে আগ্রহী হবে। পাশাপাশি বস্তিবাসীদের জন্য কমদামে পানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়াসার সংযোগ আছে ৬৩ হাজার ৫৪৫টি। যার ৮৮ শতাংশ আবাসিক আর ১২ শতাংশ অনাবাসিক। আর চাহিদার বিপরীতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সরবরাহ দিতে পারে ওয়াসা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ জানান, কেমিক্যাল ও বিদ্যুতের যা খরচ আসবে তা থেকে প্রতিমাসে তিন কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ বাড়বে। বর্তমান খরেচর সঙ্গেে এটি যোগ হবে। পানি দাম যদি না বাড়ায় তাহলে কোন রকমই এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যাবেনা। কারণ সরকারতো লোকসান দেবেনা।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

