সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বেড়েই চলছে নানান রোগ

আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ৬:৩৬ অপরাহ্ন

sitakund-black-oil-pic-2

নির্দেশ বড়ুয়া, সীতাকুণ্ড করেসপন্ডেন্ট :: অবৈধ কালো তেল পুড়িয়ে পোড়া মবিল তৈরী করতে গিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়ায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় যেন জনসাধারণের প্রতিনিয়ত দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামের মানুষ এ কোন দুর্বিসহ জীবন পার করছে। বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বেড়ে চলছে শিশুদের কাঁশি, এজমা, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ বালাই।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সুলতানা মন্দির এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জিপিএইচ ইস্পাত সংলগ্ন একটি নামবিহীন পোঁড়া কালো তেলের মিলের এই দুর্গন্ধযুক্ত কালো ধোঁয়া যেন মানুষ তথা সকল জীবের কাছ থেকে অক্সিজেন কেড়ে নিচ্ছে ।

sitakund-black-oil-pic-1

শীতের আদ্রতার শুরুতে বিষাক্ত এসিড মিশ্রিত কালো তেল পোঁড়ানো ধোঁয়াগুলো বায়ুমন্ডলকে ঘনিভুত করছে, ফলে এলাকার বিশেষ করে শিশুদের কাঁশি, এজমা ও হাঁপানি রোগের সুত্রপাত ঘটছে।

পাশাপাশি অত্র এলাকার বয়স্ক লোকদের শ্বাসকষ্টও বেড়ে চলেছে। সুত্রে জানা গেছে মিলটির পাশে একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিশুদের অসুবিধার কথা বলে বার বার অভিযোগ করা হলেও প্রভাবশালী কালো তেলের মালিকদের কাছে হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টিই অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষকরা।

মসজিদের ইমাম হারুন বলেন, এই কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত গন্ধের কারণে মুসল্লিদের নিয়ে নামাজ পর্যন্ত পড়তে অসুবিধা হয়। এলাকার সালাউদ্দিন, জসিম, ফোরকান সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন পোড়া তেলের গন্ধে বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঘনঘন বাচ্চাদের অসুখ হচ্ছে।

ভুক্তভুগিদের অভিযোগ পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ছুটে যান ঐ এলাকায়। সেখানে দেখতে পাওয়া যায় নাম সর্বস্বহীন একটি লোহার তৈরি উঁচু ঘরে বড় বড় বয়লার। পুরাতন জাহাজের কালো তেল বয়লারে নিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সালফার-ডাই-অক্সাইড এসিড মিশিয়ে তা পর্যাপ্ত পরিমানে আগুনের তাপ দিয়ে পাতলা একটি সংমিশ্রন তৈরি করে নিচ্ছেন তারা। ঐ পাতলা সংমিশ্রন পদার্থগুলি ঠান্ডা করে বোতলজাতের মাধ্যমে অটোমোবাইলের লুব অয়েল নামে বাজারে মিশিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটছে অবৈধ কালো তেলের কারবারিরা।

যা গাড়ীর ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক বলে জানান অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার হালিম শিকদার। মিলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনিস বলেন, পাঁচ-ছয় জন মালিক মিলে এই প্রতিষ্ঠানটি করেছেন। তিনি মালিকদের নাম প্রকাশ করতে অনীহা দেখিয়ে বলেন, আমরা কোন অবৈধ কাজ করছি না।

সূত্রে আরো জানা যায়, পুরাতন জাহাজের ভিতর তেল জ্বলতে জ্বলতে এক ধরনের কালো তেলের বর্জ্য জমে যায়, সেই বর্জ্য পদার্থগুলি কম টাকায় কিনে এসিড মিশিয়ে লুব অয়েল নাম দিচ্ছে সংঘবদ্ধ কালোতেলের কারবারিরা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন জানান, লাইসেন্স বিহীন, অনুমোদনহীন ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট করলে প্রতিনিধি দল সরেজমিনে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সাস্থ্য কর্মকর্তা এস এম নুরুল করিম রাশেদ বলেন, বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত এসিড, মিথেন গ্যাস বাতাসে ছড়ালে শিশু ও বয়স্ক লোকের শ্বাষকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুস ক্যান্সার সহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমীন বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এর আগেও অভিযান চালিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে মিলটি জব্দ করে সীলগালা করা হয়েছিল। আবারো এধরনের কাজ শুরু করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post