
সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ মামুন, টেকনাফ করেসপন্ডেন্ট :: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে জিন্জিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করছে প্যারা শিক্ষক সাইদুর রহমান নামের এক শিক্ষক।
এই লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মামলার হুমকি-ধমকি দেয়। এছাড়া অভিযোগ করেন সচেতন অভিভাবকগণসহ অনেকেই।
তাছাড়া কয়েকজন অভিভাবক শুধুমাত্র এই শিক্ষকের কারণে তাদের মেয়েদের ওই বিদ্যালয় ত্যাগ করে আর লেখাপড়া গুটিয়ে ফেলছেন অনেকেই। এদের মধ্যে একজন ছাত্রী নাম হাফসা বিবি। পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। বয়স ১২ বছর। ওই ছাত্রীর সাথে দীর্ঘদিন জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক থাকার পরও সে যখন এখন কলঙ্ক মাস্টারের কথামত কাজ করছে না তখন মাস্টারের সংগ্রহে থাকা তার ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে অনকেবার।
এদিকে এই প্যারা শিক্ষকের হাত এতই লম্বা যে, কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইলে সে তাকে কোন না কোন কায়দায় ম্যানেজ করে ফেলে বলে নাম না জানা শর্তে অনেকেই জানায়।
এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে মুঠোফোনটি কেটে দেয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউপি দফাদার ও ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী রুনা আক্তারের বাবা হাবিব উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার মেয়েকে লেখাপড়া করার জন্য দিয়েছিলাম ওই প্রতিষ্ঠানে। পরে নিজের চোখে দেখলাম এই মাস্টারের অপকর্মে। পরে আমার মেয়ের ভবিষতের কথা ও মানসম্মানের কথা চিন্তা করে আমি আর স্কুলে পাটায় না মেয়েকে।
শুধু রুনা আক্তার নয় আছে আরো অনেকই। এই লম্পট শিক্ষকের কারণে নষ্ট হচ্ছে অনেক নিরাপরাধ শিশুর জীবন। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের পড়ালেখা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন অভিভাবক জানায়, ‘এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হোসন (সাবেক মেম্বার) জানায়, এ ঘটনাটি আমি শুনেছি তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখব।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদের কাছে জানতে চাইলে ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘দ্বীপে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সত্য। পাশাপাশি কয়েকজন অভিভাবক আমাকে অভিযোগও করেছে। তবে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সাথে বসে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ বোস বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের ঘটনার কথা তিনি শুনলেও তাঁর কাছে লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। তবে যদি লিখিত অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘ঘটনাটির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ নেওয়া হবে।’
সিটিজিসান.কম/শিশির
Print This Post
