জনবল সংকটে চট্টগ্রাম কাস্টমস, ভােগান্তিতে ব্যবসায়ীরা!

আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৬ ৬:১১ অপরাহ্ন

custom
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এককভাবে দেশের সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান হলেও, জনবল সংকটের অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। এদিকে লোকবলের অভাবে সঠিক সময়ে কাজ ডেলিভারী নিতে না পেরে ভােগান্তিতে পড়ছে ব্যবসায়ীরা।

অনুমোদিত মোট জনবলের প্রায় ৭০ শতাংশ পদই শূন্য। এর মধ্যে শুল্কায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ক্ষেত্রে সংকট সবচেয়ে বেশি। ফলে ব্যবসায়ীদের অপচয় হয় সময় আর অর্থের ঘটে দুর্নীতির ঘটনা। দীর্ঘায়িত হয় রাজস্ব আদায়ও।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়নের জন্য দিনে গড়ে আমদানি আর রফতানি চালান জমা পড়ে প্রায় ৪ হাজার। সব ঠিকঠাক থাকলে নথিপত্র দাখিলের প্রথমদিনই শুল্কায়ন সম্পন্ন হবার কথা। তবে বাস্তবে তা হচ্ছেনা। কারণ, তীব্র জনবল সংকট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে রাত হয়ে যায়। রিপোর্ট তৈরীতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৪ দিন পর্যন্ত। কয়েক মিনিটের স্ক্যানিং কাজ, লেগে যায় একদিনও। দীর্ঘ সময় ব্যয় হয় ট্রেজারি শাখায়। পণ্য খালাস পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন দীর্ঘসূত্রতা। ফলে বাড়ে আমদানি-রফতানি ব্যয়। সুযোগ তৈরী হয় অনিয়ম-দুর্নীতির।

চট্টগ্রাম মেট্রাপলিটন চেম্বার সহসভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, পন্য কালাসের জন্য একবারের কাজ দুই বারে করতে হচ্ছে। ডিউটি বেশি দিতে হচ্ছে। এছাড়া খুশি করার ব্যাপারতো আছেই।

কাস্টমস হাউসের অনুমোদিত পদ ১২শ ৪৮। যার মধ্যে ৭শ ২২টি পদই শূন্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট সহকারি, উপ-কমিশনার, রাজস্ব ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা পদে। যা পূরণ হচ্ছেনা অনেকদিন ধরে।

কাস্টমসে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন নিশ্চিত হলে রাজস্ব আদায় গতিশীল হবার পাশাপাশি কমবে দুর্নীতির সুযোগ-মত কর্তৃপক্ষ আর ব্যবসায়ীদের।

সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, সকালে পেপার সাফমিট করার সাথে সাথে আমি এ্যাসিসমেন্ট করতে পারতাম। কিন্তু দেখা গেল এ্যাসিসমেন্ট করার জন্য দুপুর পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করেত হচ্ছে। যেভাবে আমি দিনের সেবাটি দিনে পাওয়ার কথা সেটা পাচ্ছি না। সেক্ষেত্রে ওই কাজ হলে শতকরা ৮০% কাজ হয় বাকি কাজের জন্য আবার পরের দিনের জন্য অপেক্সা করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস’র কমিশনার এ এম এফ আব্দুল্লাহ খান বলেন,  কাস্টমসের বিষয়টি গুলো হলো প্রতিদিনকার সার্ভিস প্রতিদিন দিতে হয়। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি যতটুকু পাওয়ার। কাস্টম হাউস’র মন্জুরীকৃত পদ তার ৩০% পর্যন্ত বাকি আছে। সেগুলো পুরণ করার চেষ্টা করছি।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post