৬ মাসের মধ্যে বিআরটিএ’র সাড়ে ১২ লাখ গ্রাহক পাবে স্মার্টকার্ড

আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২২ ৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০২২ রবিবার : ১০.১৮ এএম

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় অফিসে কাজের গতি বাড়ার পাশাপাশি এখন বেড়েছে সেবার মান। বছরখানেক আগেও যেখানে শতশত দালালের আনাগোনা ছিলো। গ্রাহকেরা দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাতো। দালাল ছাড়া করা যেতো না অফিসিয়াল কোনো কাজ। সেখানে এখন ভিন্ন চিত্র। সরকারের কঠোর নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নানামুখি পদক্ষেপের কারণে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কমেছে দালালের দৌরাত্ম। এতে যেমন খুশি যানবাহন মালিক ও তেমন শ্রমিকরাও।

যানবাহন মালিক ও চালকদের ভাষ্যমতে, আগের তুলনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালের উপদ্রব কমেছে। বিআরটিএ এর ডকুমেন্টটারি কার্যক্রম এখন অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।

ফটিকছড়ি থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আসা রিপন কান্তি সুশীল জানান, এখন আর দালাল ধরতে হয় না। নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে পারি। কিন্তু আগে দালাল ছাড়া কথাই বলা যেত না।

বিআরটিএ’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞা বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে যানবাহন মালিকরা প্রায় নব্বই হাজার গাজীর লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিআরটিএ এর কর্মকর্তারা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দিয়েছে।’

যানবাহন দূর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন অসংখ্য লক্কর ঝক্কর গাড়ি এখনও সড়কে চলাচল করছে। এগুলোর জন্য শুধু গাড়ির চালক- হেলপার দায়ি নয়, যিনি গাড়ির মালিক তাকেও এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। গাড়ি নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। নিজেরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ির চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের জন্য দেশের ২৫টি জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।’

সড়কে যাত্রী হয়রানির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআরটিএ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পর গণপরিবহণের ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে। এরপরও নগরের ভিন্ন রুটে গণপরিবহণে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। যাত্রী হয়রানি রোধ এবং মোটরযান আইন ভঙ্গের অপরাধ কমাতে বিআরটিএ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত আগস্টে মাত্র ১০দিনের অভিযানে ১৩২ টি মামলায় দেওয়া হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।’

চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ডিডি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু বড় গাড়ি নয়, মাইক্রোবাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, নছিমন, করিমন ও অন্যান্য গাড়ি চালকদেরকে নিয়োগ দেয়ার আগে তাদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।’

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিআরটিএ এর সেবা কার্যক্রম নব্বই শতাংশ ডিজিটালাইজেশন এর আওতায় আনা হবে। আর তিন মাসের অপেক্ষামান সাড়ে বার লাখ গ্রাহকের স্মার্টকার্ড প্রদান করা হবে।

সিটিজিসান/এমবিইউ

Print This Post Print This Post