ইপিজেডে গলায় রশি পেঁচিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা, পুলিশের কব্জায় প্রেমিক

আপডেট: ১১ মে ২০২১ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১১ মে, ২০২১ মঙ্গলবার ১১:০০ এএম

গ্রাম থেকে গত ৬-৭ মাস আগে চট্টগ্রামে এসে লেবার হিসেবে কাজ শুরু করে জলিল শরীফ (২৭)। এরমধ্যে তার পরিচয় হয় এক সন্তানের জননী জয়নাব বেগমের সাথে। ওই নারীর সাথে তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ না থাকার সুবাধে জলিলের সাথে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করে।

কিন্তু এরই মধ্যে ওই নারী অপরিচিত লোকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু করলে বিষয়টি নজরে আসে জলিলের। আস্তে আস্তে ওই অপরিচিত লোকের সঙ্গে জয়নাব বেগনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হতে থাকলে মেজাজ বিগড়ে যায় জলিলের এবং তাকে হত্যা করে।— গ্রেফতারের পর ইপিজেড থানা পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তিই দিয়েছেন আসামি জলিল।

আজ সোমবার (১০ মে) খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার উত্তর বনিক পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইপিজেড থানা পুলিশ।

গ্রেফতার জলিল শরীফ ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার গালুয়া বাজার ইউনিয়নের খাকী শরিফ বাড়ির মোফাজ্জল শরিফের পুত্র। সে বন্দর এলাকার বাংলা বাজার ঘাটে লেবারের কাজ শুরু করে।

আসামি জলিলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ৬-৭ মাস আগে সে চট্টগ্রাম এসে কলসীদীঘির পাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়া বাংলা বাজার ঘাটে লেবারের কাজ শুরু করে জলিল। সেখানে কাজ করার সুবাধে জয়নাবের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে জয়নাবের সাথে তার একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জয়নাবের স্বামী জয়নাবের সাথে থাকতো না এবং তাদের মধ্যে কোন যোগাযোগও ছিল না। একপর্যায়ে উভয়েই সিদ্ধান্ত নেয় যে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একসাথে বাসা নিয়ে বসবাস করবে।

এরপর তারা দুইজনই চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ইপিজেড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আবরারসহ একসাথে বসবাস শুরু করে। এক সাথে বসবাস করার সুবাদে একপর্যায়ে তারা দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে হঠাৎ জয়নাব অন্য একজন অপরিচিত লোকের সাথে মোবাইলে কথা বলা শুরু করে এবং জলিলের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে।

একপর্যায়ে জয়নাব জলিলকে বাসা থেকে বের করে দেয়। তবে বাসার চাবি জলিলের কাছে থাকায় সে মাঝেমধ্যে জয়নাবের অনুপস্থিতিতে বাসায় গিয়ে রান্না-বান্না করে খেয়ে আসতো। সেটি বুঝতে পেরে জয়নাব তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। জয়নাব জলিলকে বাসায় যেতে না দেওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নেয় যে একদিন সে বাসার দরজা খুলে বাসার ভিতরে অবস্থান করবে এবং জয়নাব যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য অন্য কাউকে দিয়ে বাসার দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রাখবে।

সেই বুদ্ধি অনুযায়ী জলিল একদিন বাসায় ঢুকে ফিল্টারের পানির সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাসার বাথরুমের ছাদে লুকিয়ে থাকে। পরবর্তীতে জয়নাব বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে বাচ্চাকে ঘুমিয়ে পাড়িয়ে দেয় এবং ওই অপরিচিত লোকের সাথে খোলামেলা আলাপ করতে থাকে। কথা শেষে জয়নাব ঘুমিয়ে পড়লে জলিল নিচে নেমে আসে। জয়নাব ঘুম থেকে জাগামাত্রই জলিলে দেখে উত্তেজিত হয়ে গালাগাল করে। ক্ষোভে সে একটি সাদা রশি দিয়ে জয়নাবের গলা পেঁচিয়ে ধরলে জয়নাবের মৃত্যু হয় এবং জলিল পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই মূলত এই হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ওই বিল্ডিংয়ের কেয়ার টেকার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।’

ওসি বলেন, ‘জলিল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে করে চাঁদপুর চলে যায় এবং পরবর্তীতে ঢাকা চলে যায়। আবার পরে ঢাকা থেকে তার নিজ বাড়ি বরিশালে চলে যায়। পুলিশের ভয়ে সে আবারও বাড়ি ছেড়ে খুলনা দৌলতপুরেন্তার ফুফুর বাসায় চলে যায়। খুলনা মহানগরের দৌলতপুর থানাধীন উত্তর বনিক পাড়া ফুফুর বাসা থেকে তাকে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে গ্রেফতার করি। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ঘটনা স্বীকার করে সে জবানবন্দি দেয়।’

সিএস

Print This Post Print This Post