নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ রবিবার ০২:৫০ এএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের সাথে শ্রমিকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে পাঁচ শ্রমিক। এ ঘটনার কারণ জানতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ‘নিহতের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তারকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি তিন সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির আহম্মেদ, কলকারখানা অধিদফতর চট্টগ্রামের লেবার পরিদর্শক মাসুদ রানা, বিদ্যুৎ বিভাগ চট্টগ্রামের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী অভিজিৎ কুরি।
কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নিহত পাঁচ শ্রমিকের পরিবারকে ৩ লাখ করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৫ জন নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেনকে। এছাড়া অন্য দুই সদস্য পুলিশ সুপার নেছার আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির হোসেন।’
কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের ১২ দফা দাবিতে বিক্ষোভকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ডাকে বিদ্যুৎ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ। বেলা পৌণে ১২টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের জোর করে দমাতে গেলে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। এরপরই শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করলে পুলিশও তাদের ওপর গুলি চালায় এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও চমেক হাসপাতালে একজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত আরও ১৭ জন। এছাড়া আহত হয় তিন পুলিশ সদস্যও।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ১২ দফা দাবিগুলো হলো— ১০ তারিখ বেতন দিতে হবে। পানি ও বাথরুম ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। রমজান মাসে ৮ ঘন্টা করে ডিউটি করাতে হবে। শুক্রবার অর্ধবেলা ডিউটি দিতে হবে জুমার নামাজ পড়া ও বিশ্রামের সুযোগের জন্য। ঈদের বোনাস ৫০ % দিতে হবে। কোন শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ১ মাস আগে বলতে হবে এবং ছাঁটাইয়ের পর তার পাওনা বেতন দিতে হবে। যখন তখন হুট করেই ছাঁটাই করা যাবে না। অগ্নিকাণ্ডে কোন শ্রমিকের ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ খরচ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। স্কেল অনুসারে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও শ্রমিকরা বীমা ভাতা পাননা। তাই ইন্সুরেন্স সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কোন চাইনিজ বাঙ্গালি শ্রমিকদের গায়ে হাত দিতে পারবে না। সকাল ৭ টা থেকে ডিউটি দিতে হবে এবং সকল দাবি পূরণ হলে ডিউটিতে যোগ দেওয়া।
সিএস
Print This Post
