শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাটা যাতে চলমান থাকে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২০ ৫:৪৭ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৮ অক্টোবর, ২০২০ বৃহস্পতিবার ০৫:৪০ পিএম

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, কলেজে যেতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও আমরা চাচ্ছি, তাদের পড়াশোনাটা যাতে চলমান থাকে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারছি না। তাদের টেস্ট পরীক্ষা, ক্লাস পরীক্ষা, সেই সব পরীক্ষা নিয়ে তাদের রেজাল্ট দিয়ে… আপনারা দেখেছেন আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের প্রমোশন দিয়ে দেয়া হবে। তারা যেন পড়াশোনাটা অব্যাহত রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে হাওরের বিস্ময় কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতি, টেলিভিশনে ক্লাস নেয়াসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার দিকেও নজর দিতে হবে। খোলা বাতাসে থাকা, রোদে থাকা। করোনাভাইরাস দূর করার জন্য এটা একান্ত প্রয়োজন। আপনারা সেটা মেনে চলবেন। আপনারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন, যাতে এই করোনাভাইরাসে আর কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আগামী শীতে করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়তে পারে। সেটা মাথায় রেখে সরকার জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করছে। করোনাভাইরাস আগামী শীতকালে বাড়তে পারে, সেটা মাথায় রেখে প্রত্যেকটা জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নির্মাণ থেকে শুরু করে অক্সিজেনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’

করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দুই হাজার চিকিৎসক, তিন হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি, টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণের কাজ করা, জনগণের কল্যাণ করা।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে একটা সড়কের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। নৌপথগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। রেলপথ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে এবং আরও নতুন নতুন অঞ্চলে রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেলে যোগাযোগের সুযোগটা বাড়াচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে, মানুষের পণ্য পরিবহনের সুবিধা হবে। সেখানে মানুষের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর হাওরের বিস্ময় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইশ! কবে যে যাব। এ সড়কে (দেখতে) কবে যে যাব! আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব! রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাব। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাব।’

এ সময় গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

আরএইচ

Print This Post Print This Post