এস আলম ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নামে ৯ লাখ টাকা হাতালো যুবলীগ নেতা

আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:০০ পূর্বাহ্ন

বাঁশখালী প্রতিনিধি | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বৃহস্পতিবার  ১০:০০ এএম

দেশের স্বনামধন্য এস আলম গ্রুপের আওতাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে একাধিক ব্যাংক। ওই প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বাপ্পী চৌধুরী নামে এক ভয়ংকর প্রতারকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত হলেন, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা খরনা ইউনিয়নের দক্ষিন খরনা চৌধুরী বাড়ীর হাবিবুর রহমানের পুত্র বাপ্পী চৌধুরী।

এদিকে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সূত্রে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সালের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা, মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের রায়হান মোহাম্মদ কায়সারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, নোয়াখালী জেলার নোয়াখালী সদর থানা ইউপির মামুন উদ্দিনের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, চকরিয়া উপজেলার বড়ইতলী ইউপির মোহাম্মদ মহসিনের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আবদুর রহিমের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউপির মোহাম্মদ জাফর আলমের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকাসহ সর্বমোট ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বাপ্পী চৌধুরী।

টাকার পরিবর্তে প্রমাণ স্বরুপ চেক দেয় সবাইকে। টাকা নেওয়ার এক মাসের মধ্যে চাকরি দিবে মর্মে চুক্তিও করে। চুক্তি অনুযায়ী চাকরি দিতে না পারায় এরপর কিছুদিনের মধ্যে চাকরি দিবে মর্মে বার বার সময় নেয়। পরবর্তীতে চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে। এরপর শুরু হয় টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নিয়ে আরেক প্রতারনা। বার বার সময় নেওয়ার পরেও টাকা ফেরত না দিলে চাকরি প্রত্যাশীরা নগরীর জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার তার বাসায় গেলে জানতে পারে সেখান থেকে বাসা ছেড়ে বাপ্পী অন্যত্র চলে যায়। এখনও পর্যন্ত তারা এ প্রতারকের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল মামুন ফায়সাল সিটিজিসানকে বলেন, ‘এস. আলমের ব্যাংকে ভালো পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে দুই লক্ষ নিয়েছে বাপ্পী। এখন সে চাকরি দিতে না পেরে টাকাগুলো নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেল। তার মোবাইল নম্বারও বন্ধ রেখেছে। বাড়িতে গিয়েও পাচ্ছি না। আমার পাওনা টাকাগুলো ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

জানা গেছে, বাপ্পী চৌধুরী খরনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। সম্প্রতি এ ধরনের আরো অনেকের সাথে চাকরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ পাওয়ায় তার কমিটির বিরুদ্ধে পটিয়া উপজেলা যুবলীগ জেলা যুবলীগকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরী।

অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ বাপ্পি চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে সিটিজিসানকে বলেন, ‘আমি পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী। আমার প্রতিপক্ষ হাসান উল্লাহ চৌধুরীর যোগসাজশে তারা এসব করতেছে।’

অভিযোগকারীরা তো আপনার এলাকার লোক নয়, এরা কেন আপনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে বাপ্পি বলেন, ‘ওদেরকে অনেকবার ডাকাইছি। ওদের সাথে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন আছে। কিন্তু তারা আসতেছে না। সেখানে আমার করার কিছু আছে ভাই? মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই তারা এই কাজে লিপ্ত হয়েছে।’

বাপ্পি চৌধুরীর অভিযোগ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরী সিটিজিসানকে বলেন, ‘গত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে পটিয়া উপজেলা যুবলীগ আয়োজিত সমাবেশের দিন কয়েকজন যুবক সমাবেশ মঞ্চে উঠে যায়। ওরা চেকবই সহ কিছু অভিযোগ উপজেলা যুবলীগের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করে। তখন ওরা কান্নাজড়িত কন্ঠে আমাদের কাছে প্রতিকার চায়। ওরা পটিয়ায় এসেছিল হুইপ মহোদয়ের সাথে দেখা করার জন্য। হুইপ মহোদয় করোনার সময় কারো সাথে দেখা করেননি। তাই ওই যুবকরা আমাদের সমাবেশে এসে যোগাযোগ করে। আমি তাদেরকে আগে থেকে চিনতাম না।’

বাপ্পি চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার আমাদের নেই। তার বিষয়টা আমরা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে জানিয়েছি।’

এদিকে স্বনামধন্য এস আলম গ্রুপের ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নামে এমন অভিনব প্রতারনায় পটিয়ার মানুষের সম্মান এবং এস আলম গ্রুপের সম্মান বিনষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, এমন মুখোশধারী প্রতারক থেকে সকলকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ/এমবিইউ

Print This Post Print This Post