আইআইইউসি প্রতিনিধি | আপডেট : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ মঙ্গলবার ০৫:৫০ পিএম
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আ ন ম শামসুল ইসলামসহ ছয় জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন— ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, সাবেক প্রক্টর ড.কাউসার আহমেদ, সাবেক বিবিএ ডীন মাহবুবুর রহমান, সাবেক সহকারী প্রক্টর নিজাম উদ্দিন, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর শফিউল আলম।
জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ছয় জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন।’
হাইকোর্ট আসামিদের নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আজ (মঙ্গলবার) তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। পরে আদালত শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এজাহারে বাদী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে এই ছয় আসামির প্ররোচনায় ছাত্রশিবিরের ৭০ জন ক্যাডার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করেন।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার এক দিন পর ২৯ জানুয়ারি শিক্ষক লাঞ্ছনা ও ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ওই দিন জরুরি সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রাতের মধ্যে ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি নির্যাতিত ছাত্র বাদী হয়ে ১১ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতি ও র্যাগিং নিষিদ্ধ করে। ওই রাতেই সীতাকুণ্ড থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১০ ফেব্রুয়ারী কামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এই মামলাটি করেন যিনি চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আইনবিষয়ক সহ-সম্পাদক।
সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ/এরএস
Print This Post
