বন্দর-পতেঙ্গায় করোনায় মৃতদের দাফন করবে একদল যুবক

আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ ৯:২৫ অপরাহ্ন

রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ১৫ জুন, ২০২০ সোমবার ০৯:০০ পিএম

মহামারি করোনাভাইরাসে অথবা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকায় কেউ মারা গেলে তাঁর দাফন অথবা সৎকারের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ‘ক্যারিয়ার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ সংগঠনের একদল স্বেচ্ছাসেবী যুবক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিধি মেনে সাম্প্রতিক ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ইপিজেড থানা এলাকায় করোনা আক্রান্ত একজন হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকার ও সল্টগোলা ক্রসিংয় এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি।

‘শুরুতে করোনায় মারা যাওয়া দুইজন ব্যক্তির দাফন কার্যে সম্পন্ন করতে প্রত্যেক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা’— জানান ক্যারিয়ার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান মোহাম্মদ নকিব ফারহান।

সংগঠনের প্রধান মোহাম্মদ নকিব ফারহান সিটিজিসান ডটকমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে আসছেন না। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও ফেসবুকে দেখেছি, করোনায় মারা গেলে হাসপাতালে লাশ ফেলে চলে গেছেন আপন ছেলে সহ স্বজনরা। এসব চিত্র দেখে দেশের স্বার্থে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি’।

‘আমাদের সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্য ছাত্র। ইতিমধ্যে সদস্যদের দুইটি টিমে ভাগ করা হয়। মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ দাফন কার্য সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছায় কাজ করা হবে।’— যোগ করেন তিনি।

জানা যায়, ইতিমধ্যে করোনায় মৃত ব্যক্তি লাশ দাফন করতে সংগঠনটির ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কম হওয়ায় নির্দিষ্ট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে পুরো চট্টগ্রামে সেবার দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা থানা এলাকায় করোনায় বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনের কেউ না থাকলে ০১৭৫১-৮৮৭৬৭৫ নম্বরে অথবা ২ নম্বর নাবিক কলোনী রোড, নেভী হাসপাতাল গেইট, ইপিজেড, চট্টগ্রাম ঠিকানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছে সংগঠন প্রধান নকিব ফারহান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইপিজেড থানার ওসি মীর মো. নুরুল হুদা বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে নিজ এলাকায় স্বেচ্ছায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিধি মেনে দাফন করতে কোনো বাঁধা নেই। এটা একটা ভাল উদ্যোগ। তবে অন্যস্থানে গেলে তার পারমিশন লাগবে বলে জানান তিনি’।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস/আরএইচ

চট্টগ্রামের সব খবর পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে  এবং আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Print This Post Print This Post