প্রেমের কারণে মেয়েকে হত্যা করল মা

আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৮ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

নোয়াখালী | ২৪ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার, ১১:১০ এএম |

তাবাসসুম তানিয়ার (২২)। পড়েন অনার্সে, প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার এক সহপাঠীর। প্রেমের কারণেই মেয়েকে হত্যা করে রাতে লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে রাখেন মা বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১১ নভেম্বর নোয়াখালী জেলার পৌরবাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ১৫ নভেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তানিয়ার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে সুধারাম থানা পুলিশ। ওই দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তানিয়ার বন্ধু তাপসকে আটক করা হয়।

পরে জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিবির ওসি আবুল খায়ের তানিয়ার মা সাজেদা আক্তার নিপু (৫৫), বোন চাঁদনী (১৯) ও মামা সোহেলকে পৌরসভার বাড়ি থেকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই হত্যাকণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে আটক চাঁদনীকে শুক্রবার নোয়াখালী বিচারিক আদালত-২ এ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেব উদ্দিন খানের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম তানিয়া সহপাঠী তাপসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জাড়িয়ে পড়েন। ছেলেটি হিন্দু সম্প্রদায়ের। মা সাজেদা আক্তার ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে বাসায় ফেরার পর তাপস-তানিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলে দেন চাঁদনী। এতে সাজেদা ক্ষিপ্ত হয়ে তানিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মা, মামা ও বোন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। গভীর রাতে তারা লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেন। পরে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তানিয়ার মা।

ওসি (ডিবি) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়ার মা ও বোন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বোনকে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয়েছে। মা ও মামাকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

স্থানীয়রা জানান, তানিয়ার বাবা শাহাজাদা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় থাকেন। ৮-১০ দিন আগে মেয়ে তানিয়া ও চাঁদনীকে বাসায় রেখে ঢাকায় যান সাজেদা আক্তার নিপু। গত ১১ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের দিন তানিয়ার মা উপকূল এক্সপ্রেসযোগে মাইজদী ফেরেন। এরপর তিনি থানায় জিডি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তানিয়া তাকে মাইজদী কোর্ট রেলস্টেশনে এগিয়ে আনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

পরে ১৫ নভেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তানিয়ার অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post