বায়েজিদে এসআই’র বিরুদ্ধে গৃহবধুর ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৮ ৩:৫৫ অপরাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম


চট্টগ্রাম | ০৯ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবারবার, ০৩:৫৫ পিএম |

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ফরিদা (৩৩) নামে এক গৃহবধুকে মামলার ভয়ভীতি প্রদশর্ন একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি গৃহবধুর পরিবারে জানাজানি হলে অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে বিষ পানে আত্নহত্যার চেষ্টা চালান। আহত অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেজিষ্টার ডা. মোহাম্মদ নুরুন নবী।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধু পাবনা জেলার আমিন পুর থানার কাশিনাথপুর টাংবাড়ির মো. শাহাজাহান শেখের স্ত্রী। বর্তমানে তারা মহানগরের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার হারুনের ভবনে থাকেন।

অভিযুক্ত পুলিশের এসআই মো. এয়ার হোসেন সোহেল। তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা থেকে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে মহানগর বায়েজিদ থানায় কর্মরত আছেন।

ধর্ষনের শিকার গৃহবধুর স্বামী শাহাজাহান শেখ জানান, পুলিশের পোশাক কারখানায় চাকরি ও শহরে একটি দোকান নিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়েছিল এয়ার হোসেন সোহেল। আমি বিশ্বাস করে গত ১৫ আগষ্ট স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বায়েজিদ এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় উঠি। প্রায় আমার সাথে দেখা করা জন্য বাসায় আসতো এসআই সোহেল। আমার অনুপস্থিতিতে আমার বাসায় আসতো আমার স্ত্রীর সাথে গল্পগুজব করতেন তিনি।

শাহাজাহান শেখ জানান, সবশেষ গত ১৮ আগষ্ট আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে এসেই আমার স্ত্রীর সাথে জোরপূবর্ক অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়েছে বলে আমার স্ত্রী কাছে জানতে পেরে এসআই এয়ার হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হুমকি দেয়। বলেন- বেশি কথা বললে ইয়াবা দিয়ে চালান দিব। এই বলে হুমকি দেন। পরেরদিন মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবরে এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি বলে তিনি জানান।

গৃহবধু ফরিদা জানান, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি ও আমার স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে সারারাত আটকে রেখে আমাকে ধর্ষণ করে। এর আগে, বাসায় আমার স্বামীর অনুপস্থিতি এসেই আমাকে জোরপূবর্ক ধষর্ণ করতো পুলিশের এই কর্মকর্তা। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এদিকে, ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে পুলিশের এসআই এয়ার হোসেন সোহলে বলেন, আমার বিরুদ্ধে গৃহবধুর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।

জানতে চাইলে মহানগরের (উত্তর জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, গৃহবধু ফরিদা নামে এক নারীর আমাদের কাছে লিখিত একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post