টেকনাফে ঝোড়ো হাওয়ায় আনোয়ারায় ১টি ইউনিয়ন প্লাবিত

আপডেট: ৩০ মে ২০১৭ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

111চট্টগ্রাম :: ঘূর্ণিঝড় মোরা বাংলাদেশ উপকূলের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টায় ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।

আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ইউনিয়নের বারো আউলিয়া, ধলঘাট ও পূর্ব গহিরা গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের জমি ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে গেছে। তবে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়।

কক্সবাজারের টেকনাফে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে তীব্র বাতাস বইছে। সাগর বিক্ষুব্ধ ও উত্তাল হয়ে উঠেছে। তবে রাত ১২ টা পর্যন্ত কোনো জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানেনি। উপকূলের অনেক এলাকা থেকে মানুষ নিরাপদ আশ্রয় ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে ইতিমধ্যে দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও পাকা দালানে অবস্থান নিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ১০ নম্বর মহা বিপৎ​সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহা বিপৎ​সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর বিপৎ​সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৮ নম্বর বিপৎ​সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

সিটিজিসান.কম/ফয়সাল

Print This Post Print This Post