
ঈদগাঁও করেসপন্ডেন্ট :: কক্সবাজার সদর উপজেলার এক চিহ্নিত অপরাধী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার ভূক্তভোগীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করলেও এসবের তোয়াক্কা করছে না বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনার মন্ডল পাড়ার জসিম উদ্দীন প্রকাশ শাহজাহান (৪০) দীর্ঘদিন যাবত উক্ত এলাকায় চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। দাবী না মেটালে বা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন ও অপহরণের মত ভয়ংকর ঘটনা। তার এসব অপকর্মের শিকার ভূক্তভোগীদের মধ্যে ভোমরিয়াঘোনা উত্তর শিয়া পাড়া এলাকার রমজানের স্ত্রী দিলুআরা বেগম গত ৩ নভেম্বর এ অপরাধীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করে যার নং ১৬১।
এছাড়া, ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ উক্ত দিলুআরা এ অপরাধীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে যার নং সিআর ২৫৪। জামিনে মুক্ত হয়ে ফের বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে না নিলে খুন ও গুম করবে মর্মে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। একই রূপ নির্যাতনের শিকার একই এলাকার মৃত মোজাহের আহমদের ছেলে ছলিম উদ্দীন বিগত ৮ মার্চ উক্ত অপরাধীর বিরুদ্ধে মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করে।
একই এলাকার ওলা মিয়ার ছেলে রমজান মিয়ার উক্ত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিগত সালের ১০ সেপ্টেম্বর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে। একের পর এক অভিযোগের পরও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ শাহজাহান আরো বেপরোয়া হয়ে এলাকার সাধারণ লোকজনদের অত্যাচার-নির্যাতন করে চলছে।
এলাকার লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই শাহজাহান ইতিপূর্বে উত্তর শিয়া পাড়ার ইসমাইল প্রকাশ ইয়ুশা থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে। তার হুমকিতে এলাকা ছাড়া হয়েছে নুর মোহাম্মদ ও তার পরিবার। মধ্যম শিয়া পাড়ার মদাইয়া সুয়ারী থেকে ৪০ হাজার, পাশ্ববর্তী এলাকার হাজী ছৈয়দনুর থেকে ২৬ হাজার, মন্ডল পাড়ার হাবিব উল্লাহর কাছ থেকে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা, মাইক্রো ইসলামের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা, শিয়া পাড়ার খালেদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, উত্তর শিয়া পাড়া লেদুর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, প্রবাসী ইউছুপ নবীর কাছ থেকে অর্ধ লক্ষ টাকা, স্থানীয় মসজিদের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ সহ অসংখ্য লোককে অপহরণ পূর্বক টাকা আদায় ও নির্যাতন করে চলছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায়।
এলাকায় কোন ব্যক্তি জায়গা-জমি বিক্রি করলে তা থেকেও তাকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহজাহান ও তার বাহিনীর একের পর এক অপহরণ ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি ও অস্ত্র সরবরাহের মত জঘন্য কাজেও জড়িত বলে দাবী করছে।
সে প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে নিজের নাম্বারের পরিবর্তে অন্যের মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন করে চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু এক পরিবারকে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। যা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে সত্যতা মিলবে বলে দাবী করে এলাকাবাসী। শিয়া পাড়ার গুরা মিয়ার পাহাড়ের উপর এক ঘরেই সন্ধ্যা নামলেই শাহজাহান ও তার বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পরিকল্পনা ও আসর জমিয়ে তোলে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযোগ উঠা শাহজাহানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সিটিজিসান.কম/শিশির
