ফোরকান সোহাগ, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) ::
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার দুর্গম পাহাড়ী এলাকা থেকে কার্তিক চন্দ্র ত্রিপুরা প্রকাশ কাতিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মস্তক বিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে মাটিরাঙা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পলাশপুর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দুর্গম ২নং রাবার বাগান এলাকার এক জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মস্তক বিহীন মরদেহটি উদ্ধার করে। কার্তিক চন্দ্র ত্রিপুরা প্রকাশ কাতিয়া মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চকপাড়া লম্বাছড়া গ্রামের বাসিন্দা ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে বুধবার সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা বাজারে আসারে উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর আর বাড়িতে ফিরে না আসায় অনেক খোজাখুজি করে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালের দিকে তার মেয়ের দেবর ছিনুক ত্রিপুরা তাকে খুজতে গিয়ে ২নং রাবার বাগান এলাকার রাস্তায় রক্ত দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড়ের কেচিংয়ে মাটিচাপা দেয়ার চিহ্ন দেখতে পায়।
পরে খবর পেয়ে মাটিরাঙা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো.সাহাদাত হোসেন টিটো‘র নেতৃত্বে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় কার্তিক চন্দ্র ত্রিপুরা প্রকাশ কাতিয়‘র মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। কিছু দুর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মস্তকটি উদ্ধার করে পুলিম।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকল মহলকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান। এসময় তিনি কার্তিক চন্দ্র ত্রিপুরা প্রকাশ কাতিয়া‘র পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে ধৈর্য্য ধারনেরও আহবান জানান।
মাটিরাঙা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাহাদাত হোসেন টিটো মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বয়স্ক লোক হওয়ায় তার সাথে কারো কোন ধরনের শত্রুতা ছিলনা। তাই তাকে হত্যার কোন কারণ থাকতে পারেনা।
মাটিরাঙ্গার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেই কোন বিশেষ মহল এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মাটিরাঙা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাহাদাত হোসেন টিটো।
সিটিজিসান.কম/রবি

