চট্টগ্রাম :: এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ২৭টি স্বর্ণের বারসহ আটক মো.মাসুদ ৩ দিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানার হাজতে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ পরোয়ানাভুক্ত বা সন্দেহবশত কোন আসামিকে আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে উচ্চ আদালতের।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর আটকের কথা অস্বীকার করে বলেন, মাসুদ নামে স্বর্ণসহ কাউকে আটক করা হয়নি। তবে পতেঙ্গা এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
এদিকে, আটক মাসুদের বাবা আবদুচ ছালাম আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময়ও পতেঙ্গা থানা হাজতে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এমনকি তার ছেলে নির্দোষ বলে দাবী করে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে আটকের সময় পুলিশ স্বর্ণ পায়নি। ছেলেকে এখন ছেড়েও দিচ্ছে না, আদালতেও তুলছে না। খবর বায়ান্নবিডি.কম’র।
মাসুদকে আটকের কথা তো পুলিশ অস্বীকার করছে-এ কথা বলার পর তিনি বলেন, মাসুদ পতেঙ্গা থানা হাজতেই আছে। আমার সাথে দেখাও হয়েছে। থানার সিসি ক্যামেরাতেও দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরার রেকর্ড হাতে নিলে তো মাসুদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নগরীর পতেঙ্গা থানার ফুলছড়িপাড়া এলাকায় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন লোক দক্ষিণ পতেঙ্গা বিজয়নগর এলাকার আবদুচ ছালামের ছেলে মো.মাসুদকে আটক করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার কাছে রক্ষিত ২৭টি স্বর্নের বার ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয় মাসুদকে।
এরপর পতেঙ্গা থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাসুদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ওইদিন একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে স্বর্ণসহ মাসুদের আটকের খবর প্রকাশ হয়। যেখানে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীরের স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্যও রয়েছে। কিন্তু পরক্ষণ থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে ওসি আলমগীর। যদিও মাসুদের পিতা-মাতা ও স্বজনরা মাসুদ থানা হাজতেই রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
শাহ আমানতের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলআইন্সের সুপারভাইজার শওকত মাহমুদ জানান, গত শনিবার শাহ আমানত বিমান বন্দরের কার্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মাসুদ নামে এক ব্যক্তি ওমান থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে আসা হাটহাজারীর এক বিমান যাত্রীর আনা ৪০টি চোরাই স্বর্ণের বার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যা বিমান বন্দর থেকে পতেঙ্গা থানায় জানানো হয়। পরে ফুলছড়িপাড়া এলাকা থেকে ওই মাসুদকে আটক করার খবর পেয়েছি। পরে কি হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
সরেজমিনে আলাপকালে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাসুদের কাছে ২৭টি স্বর্ণেরবার ছিল। তার সঙ্গে থাকা বেলালের কাছে ছিল ১৩টি স্বর্ণের বার। পুলিশ মাসুদকে ২৭টি স্বর্ণেরবার সহ আটক করলেও বেলাল পালিয়ে যায়। বেলালকে এখন হন্যে হয়ে খুজঁছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বর্ণেরবারগুলো চোরা কারবারীদের। মাসুদও এর সাথে সম্পৃক্ত। এ সুবাধে পুলিশ র্স্বণেরবারগুলো লোপাট করার জন্য মাসুদকে আটকের বিষয়টি চাপিয়ে যাচ্ছে। বাকী ১৩টি স্বর্ণের বারের জন্য মাসুদের এক আত্নীয় মধ্যমপাড়া এলাকার বেলালকে খোঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ ব্যাপারে মুঠোফানে যোগাযোগ করা হলে নগরীর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরী ফোন রিসিভ করেন। তবে স্বর্ণসহ মাসুদকে আটক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা বলেন। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
সিটিজিসান.কম/রবি

