ইউএনও’র “সামাজিক ও সম্প্রীতি” কমিটিতে স্থান পেল চিহ্নিত মাদককারবারি!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ মঙ্গলবার : ৭.০০ পিএম

মাদক কারবারি, সরকার বিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘‘সামাজিক ও সম্প্রীতি কমিটি”। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সামাজিক ও সম্প্রীতি কমিটিতে এমন তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলের মাঝে।

তাদের ভাষ্যমতে, তালিকাভুক্ত মাদককারবারি ও সরকার বিরোধীদের হাতে যখন সমাজের শৃঙ্খলার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, সেখানে শান্তি শৃঙ্খলা থাকবেই বা কতটুকু!

অনেকে বলছেন, আগে যদিও গোপনে মাদক বিকিকিনি হতো, তা এখন প্রকাশ্যেই হবে। সরকারের সামাজিক ও সম্প্রীতি কমিটিতে থাকার সুযোগ নিয়ে চিহ্নিত এসব মাদককারবারি প্রশাসনের প্রভাব খাঁটিয়ে এলাকার পাড়া-মহল্লা মাদকের আখড়ায় পরিণত করবে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে সরকার বিরোধীরা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে মেতে উঠবে বলে ধারণা পোষণ করেছেন তারা।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো ফরম্যাট অনুযায়ি দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলার ন্যায় লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনও গত ১লা সেপ্টেম্বর “সামাজিক ও সম্প্রীতি” নামক একটি কমিটি গঠন করেছে। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নদভীকে প্রধান উপদেষ্টা এবং লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে মোট ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

 

তবে সচেতন মহলের অভিযোগ, কমিটির ১২ নম্বর ক্রমিকে নাম রয়েছে মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের। তিনি স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত এবং মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত। ইতিপূর্বে তার মাদক বিকিকিনির ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হযেছে। এছাড়া কমিটির ৪১ নম্বরে থাকা আমিনুল ইসলাম জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী তারা দাবি করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীরীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু বলেন, এই কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। তবে ফেসবুকের মাধ্যমে এ ধরনের একটি কমিটি দেখেছি, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এসব সমালোচনার পক্ষে সত্যতাও আছে। কিন্তু কিভাবে সরকারের এমন একটি কমিটিতে মাদককারবারি ও বিতর্কিতরা স্থান পায় বুঝে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কমিটি গঠনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কারো মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া “সামাজিক ও সম্প্রীতি” কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উঠা মাদককারবারির অভিযোগটি উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিটিতে স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি তিনি আছেন। আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ উল্লাহ বলেন, ‘ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গীবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

সিটিজিসান/এমবিইউ

Print This Post