নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২২ বৃহস্পতিবার : ১১.৩০ পিএম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে (১৬) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম আব্বাস উদ্দিন। তিনি ডায়মন্ড প্রবাসী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবাধিকার কমিশন লোহাগাড়া শাখার সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া এলাকার আব্বাস টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দিন একই এলাকার মৃত তৈয়ব উল্লাহর পুত্র। অপরদিকে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্র হৃদয় (ছদ্মনাম) লোহাগাড়া শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও সদর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের রহিমাবর পাড়ার জনৈক প্রবাসীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্বাস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় আব্বাস ওই ছাত্রকে বলাৎকার করার সময় আব্বাসের স্ত্রী নিজেই তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয়দের ডেকে তাদেরকে শাহ্ আলম লিটন মেম্বারের অফিসে নিয়ে যান। তবে ইউপি সদস্য শাহ্ আলম লিটন তাৎক্ষণিক কোনও সমাধান দিতে পারেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৩নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলম লিটন বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওই ছাত্রকে সহ আব্বাস উদ্দিনকে তার স্ত্রী হাতেনাতে বলৎকাররত অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয়রা উভয়কে আটক করে আমার অফিসে নিয়ে আসে। বর্তমানে আব্বাস কোথায় জানি না। সে পালিয়েছে মনে হয়।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্র বলেন, ‘আব্বাস উদ্দিন আমাকে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তার নিমার্ণাধীন আব্বাস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় ডেকে নিয়ে যায়। এসময় আমাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জোর করে বলৎকার করে।’
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন সিটিজিসানকে বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি অপরাধ করে থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমার বিচার হবে। কিন্তু ওরা আমাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করলো কেন? আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রের মা বলেন, ‘ আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমি মেয়ে মানুষ। তাই কোথাও বিচার দেইনি এখনো। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আব্বাস আমার ছেলেকে নির্যাতন করছে। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সিটিজিসানকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা তো আমি শুনিনি। আর কেউ এ বিষয়ে অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিটিজি সান/এমবিইউ
