সন্তানের দাবি করে থানায় ‘যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে’ অন্তঃসত্ত্বা নারীর অভিযোগ

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি | আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০২১ বৃস্পতিবার ০২:১০ পিএম

পেটের গর্ভের সন্তানের দাবি করে থানায় দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী এক নারী। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী তার গর্ভের সন্তানের বাবা রাঙ্গামাটির জেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কাজল।

থানায় অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগের শীর্ষ এই নেতা বিয়ের মিথ্যে নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন ওই নারীকে। একই সঙ্গে ওই নারীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিচিত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধার নিয়েছেন অন্তত ১৫ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি সন্তানের দাবি করায় সম্প্রতি সবকিছু অস্বীকার করে ভূক্তভোগী নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোপনে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে বউ হিসেবে ঘরে তুলে নিয়েছে সংসারও শুরু করে দিয়েছে নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কাজল।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উনি যে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন, তার লিখাগুলো একটু অগোছালো। এটা এজহার হিসেবে নেওয়ার মতো না। তাই ঠিক করে লিখে আনতে বলেছিলাম, তবে তিনি আর থানায় আসেননি।’

ওই নারীর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের কপি, প্লেন যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমনের ছবি ও প্লেনের টিকেট এবং ব্যাংকের চেকের ফটোকপিসহ বেশকিছু ডকুমেন্ট এই প্রতিবেদকের হাতে পৌঁচেছে।

তবে ওই নারীর অভিযোগের বিষয় ও গর্ভজাত সন্তান অস্বীকার করছেন রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কাজল। তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য এক নারীকে দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র করছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, কাজল আমাকে বিয়ের কথা বলে ২০১৯ সালের গত ৭ আগষ্ট দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা সদরের কাঠালতলী এলাকার তার ঠিকাদারী অস্থায়ী অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে কিছু লোকের উপস্থিতিতে এক আলেমকে ডেকে এনে তার সঙ্গে আমার বিয়ে পড়ানো হয়। তবে সে সময় কাবিনের কথা জিজ্ঞেস করতেই কাজল পরে এক সময় আমাকে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ের কাবিন করে নিবে বলে জানায়। তার কথা বিশ্বাস করে সেই থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের সংসার শুরু হয়। এরপর আমরা বিভিন্ন সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভ্রমন এবং হোটেলে নিয়ে যাওয়া হতো।

ওই নারীর অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরের এই সময়ে তার শারীরিক সম্পর্কে বেশ কয়েকবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর প্রতিবারই জোর করে ওষুধ খাইয়ে আমার গর্ভপাত ঘটনো হতো। এবারও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আমি গর্ভপাতে সম্মতি না হওয়ায় আমাকেই অস্বীকার করে চলেছে। এমনকি গোপনে স্থানীয় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে কাবিন বিহীন বিয়ে করে বউ হিসেবে ঘরে তুলে নিয়েছে।

ওই নারী বলেন, আমাকে বিয়ের পর বিভিন্ন সময় তার কাজের জন্য টাকা লাগবে বলে জানায় এবং বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে হলেও দিতে বলে। আমাদের সংসার ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি ১৫ লক্ষ টাকা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে দেই। এর বিপরীতে সে ১৫ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে আমাকে একটি চেক প্রদান করে। এই টাকাও সে এখন অস্বীকার করে চলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি সদর সার্কেল এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, হ্যাঁ এমন একটি অভিযোগ নিয়ে এক নারী এসেছিলেন। তার ঘটনার বর্ণনা শুনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি বলে দিয়েছি।

সিএস