পতেঙ্গার ইনকনট্রেড কন্টেইনার ডিপোর দুয়ার যেন মরণফাঁদ, লরি কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ

রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ রবিবার ০৯:৩০ পিএম

চট্টগ্রামের শাহ আমানতের বিমানবন্দরের মাত্র আধা কিলোমিটারের আগেই রয়েছে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোর ইনকনট্রেড লিমিটেড। এই ডিপো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সেখানে বারবার ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই।

গত ৩ জুলাই রাতে এই ডিপোর একটি কন্টেইনারবাহী লরির ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় একটি যাত্রীবাহি রাইডার মিনিবাস। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে মো. জোবায়ের (১৯) নামের এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ— ওই কন্টেইনারবাহী লরিটিতে চলন্ত অবস্থায় সিগনাল বাতি জ্বালানো ছিল না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ডিপোতে ঢোকার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কন্টেইনারবাহী লরি চালায় চালকের সহকারীরা। তখন চালকরা থাকেন না লরিতে। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে ওই স্থানে। একইস্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডিপোটিতে দিনদিন বাড়ানো হচ্ছে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং। কিন্তু বাড়ছেনা তাদের জায়গার পরিধি। প্রতিদিন ডিপোতে ঢুকছে শতশত গাড়ি। ডিপোতে পণ্যবহন করতে আসে অধিকাংশ চালকের হেলপার। যারা লরি চালনায় অনভিজ্ঞ। ওই সময় চালকরা বাসায় বিশ্রাম করে।

এছাড়া অধিকাংশ সময়ে ডিপোর গাড়ি দখল করে নেয় বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশ। এতে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে হরহামেশাই। সড়কজুড়ে অবৈধ এ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে একেরপর এক দুর্ঘটনা ঘটছে সেখানে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার ১৪ নম্বর এলাকায় রাস্তাপারের সময়ে ইনকনট্রেড ডিপো থেকে বের হওয়ার দ্রুতগামী আকিজ গ্রুপের একটি লরির চাপায় গুরুতর আহত হয়েছেন নুরজাহান বেগম (৪০) নামে এক নারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

২০২০ সালের ৮ জুন বিকেলে লালদিয়ার চর থেকে বিমানবন্দর রোড দিয়ে বিজয়নগর যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ (২৬) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী। ইনকনট্রেড ডিপোর সামনে আসলে সেখানে কনটেইনারবাহী লরির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। তিনি পতেঙ্গা থানার লালদিয়ারচর এলাকার বজল আহমেদের পুত্র।

২০১৯ সালের ২ আগস্টও একই এলাকায় কনটেইনার ডিপোতে লরির ধাক্কায় মো. রাসেল (৩৫) নামে এক শ্রমিক মারা যায়।

গত ২ জুলাই ইনকনট্রেড ডিপো থেকে বের হওয়ার সময়ে লরি ধাক্কা দেয় বিমানবন্দরমুখী যাত্রীবাহী একটি রাইডারকে। এ দুর্ঘটনায় মো. জোবায়ের (১৯) নামের এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহত জোবায়ের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কৈয়ার বিল নুরুল কবিরের বাড়ির নুরুল কবিরের পুত্র।

এদিকে লালদিয়ারচর এলাকায় দুর্ঘটনার জন্য ইনকনট্রেড ডিপোর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থপনাকে দায়ি করছেন পতেঙ্গা থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তারা কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তাদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে এই স্পটে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। নাহয় প্রাণহানির ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

জানতে চাইলে ট্রার্ফিক পরিদর্শক (পতেঙ্গা) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই এলাকার দায়িত্বে আসছি মাত্র তিনদিন হলো। বিষয়টি দেখব।’

জানতে চাইলে ইনকনট্রেড লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার মুন্না বলেন, ‘গত দুইদিন আগে রাতে রাইডার দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি আমাদের আয়ত্বের মধ্যে পড়েনা। এছাড়া ডিপোতে মাল ডেলিভারীতে নিতে আসা গাড়িতে মুল চালকরাই থাকেন।’

ডিপোর গাড়িতে রাস্তা দুইপাশ দখলের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় দখল করে বাইরের গাড়ি। ডিপোর নিজস্ব গাড়ি না। মাঝে মাঝে রাস্তা দখল না করতে চালকদের বলা হয়। তারপরও আমরা বিষয়টি দেখছি।’

এমএ/আরএইচ/সিএস