চাকরি নয়, হাতে যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’— ৯ বছরে কোটিপতি পিআইও মিল্টন দস্তিদার!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৫ জুলাই, ২০২১ রবিবার ০৬:৫০ পিএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মিল্টন দস্তিদার। মাত্র নয় বছর চাকরি করেই তিনি বনে গেছেন কোটিপতি। এ দীর্ঘ সময় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। আর দুর্নীতির এসব অবৈধ অর্থ দিয়ে গড়েছেন তিনি অঢেল সম্পদ। এমন অভিযোগই উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বছরখানেক আগে ঘটিয়েছেন নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাও।

সম্প্রতি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার সম্পদের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামের ‍দুদকের এক কর্মকর্তা।

অভিযোগ রয়েছে, পটিয়া উপজেলা ও নগরে তার নিজের নামে, স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও শ্যালক ও শ্যালিকাদের নামে রয়েছে নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, জায়গা-জমি। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার বিরুদ্ধে নেমেছে অনুসন্ধানে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মধ্যম হাইদগাঁও ৫ নম্বর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আশুতোষ দস্তিদারের পুত্র মিল্টন দস্তিদার। বর্তমানে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছে। ২০১২ সালের দিকে শুরুতে ফেনী জেলাতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

গ্রামে তিনতলা বাড়ি, নগরের ফ্ল্যাটে ঢেলেছেন ৪০ লাখ

সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের দেব পাহাড় এলাকায় সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (সিপিডিএল) থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। ফ্ল্যাট কেনার পর সেখানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করে সাজ-সজ্জা করানো হয়। পটিয়ার নিজ গ্রামের বাড়িতে দৃষ্টিনন্দন ‘অরণ্য নীড়’ নামে তিনতলা বাড়ি রয়েছে তার। পটিয়া পৌরসভা বাইপাস এলাকায় ও নগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় রয়েছে পরিবারের সদস্যেদের নামে জায়গা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন ব্যাংক হাটহাজারী রোড সরকারহাট শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংক জুবলী রোড এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি ব্যাংকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র নিজ নামে, স্ত্রী ও বাবার নামে কিনেছেন।

এছাড়া তার পরিবারের সদস্য, শ্যালক ও শ্যালিকাদের নামে কয়েক কোটি টাকার ডিপিএস ও এফডিয়ার রয়েছে এই কর্মকর্তার। গ্রাম ও নগরে তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের নামে বেশ কিছু দোকান ও জায়গাতে বিনিয়োগ করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের দিকে দুর্গাপুজার প্রায় মাস খানেক আগে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিলো মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর শাখার ন্যাশানাল ব্যাংকের কর্মকর্তা রূম্পা মুহুরীর মধ্যস্থতায় থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান এই কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী ওই নারীকে এককালীন অর্থ দিয়ে ‘সমাধান’ হয়েছিল ওই অভিযোগের। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ভারতে অর্থপাচার করার তথ্যে পাওয়া গেছে।

এসকল বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মিল্টন দস্তিদারের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্ত একই সময়ে তার ব্যবহৃত নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট সচল পাওয়া গেলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি প্রতিবেদকের নম্বরটি ব্লক করে দেন।

আরএইচআর/এমএ/সিএস

Print This Post