রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ রবিবার ১০:৩৫ পিএম
ইফতারের পর অলিতে গলিতে চলে আড্ডা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খোলা সেলুনও। আবার চায়ের দোকান ঘিরে তরুণ, যুবক ও বৃদ্ধরা মেতে উঠেছেন খোশগল্পে। সামাজিক দূরত্বের বালাই দূরের কথা অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্কও। আবার কিছু দোকানদার পুলিশের ‘আইওয়াশ’ করতে অর্ধেক শাটার নামিয়ে করছে বেচাকেনা। শুধু তাই নয়, খোদ থানার পাশেই বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। যেখানে জটলা বেঁধে চলছে রমরমা কেনাবেচা। একেকটি দোকান যেন ‘করোনার হটস্পট’— লকডাউন চলাকালেও এমন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে।
প্রতিদিনই চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। আর সংক্রমণ কমাতেই সরকার সারাদেশে ১৩ টি নির্দেশনা সহ কঠোর লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই এলাকায় মানা হচ্ছেনা এসব নির্দেশনা।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করেই রাত আটটা বাজেও ইপিজেড থানার ৫০ ফুট দূরত্বেই চলছে ২০-২২ টি ভাসমান দোকান। যার মধ্যে রয়েছে কাঁচাবাজার, মাছের দোকান, চটপটি-ফুসকার দোকান ও শরবতের দোকান। আর ওইসকল দোকানগুলোকে ঘিরে লোকজনের জটলা চোখে পড়ার মতো। মাসোহারার বিনিময়ে এসব দোকান চলে বলে জানিয়য়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাকলাইন জীবন নামে এক পথচারী বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনায় থাকলে সব কিছু বন্ধ থাকবে। থানার পাশেই করোনা ছড়ানোর জন্য এমন বাজার কাম্য নয়। প্রশাসনের উদাসীনতার বলি হচ্ছে জনগণ।’
এদিকে সরকারি নির্দেশনায় খাবারের দোকান ও হোটেল ও রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা এবং রাত ১২ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ, কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করা যাবে এবং বাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ থাকলেও নজরদারি নেই শুধুমাত্র ইপিজেড এলাকায়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭ টার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড থানার ফ্রিপোর্ট, ব্যারিষ্টার কলেজ, এমপিবি গেইট, নিউমুরিং, বন্দরটিলা, নেভী হাসপাতাল গেইট, আকমল আলি রোড, সিমেন্ট ক্রসিং, হক সাহেব গলি ও এস আলম বি আলম গলিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান ও মুদির দোকান খোলা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
নেভী হাসপাতাল গেইট ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতকে দখল করে গড়ে ওঠা কাপড়ের দোকানগুলোও চলছে পুরোদমে। নির্দেশনাকে এখানেও দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলি। পোড়ামাটি রেস্টুরেন্ট, কয়লা সহ প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্টেই চলছে অর্ধেক শার্টার নামিয়ে।

সুমন নামে এক ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জানি সন্ধ্যার পর দোকান খোলার রাখার নিয়ম নেই। আমরা মানছি। থানার ক্যাশিয়ারকে ম্যানেজ করে চালাচ্ছি।’
নেভী হাসপাতাল থেকে একটু সামনে আগাতেই দেখা যায়, বাহাদুর কলোনী গলির দুই পাশে ২০ থেকে ২৫ টি অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বানানো হয়েছে ‘মিনি মার্কেট’। সেখানেও রয়েছে ক্রেতাদের ভীড়। পুরোদমে চলছে বেচাকেনা। অথচ ক্রেতাবিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি কাউকেই।

এদিকে প্রত্যেকটি চায়ের দোকানে খোশগল্পে মেতে উঠেছে যুবক ও বৃদ্ধরা। যেখানে নেই নূন্যতম সামাজিক দূরত্বের বালাই। একেকটি দোকান যেন হয়ে উঠেছে ‘করোনার হটস্পট’।
মাঝের মধ্যে থানার টহল গাড়ি আসলে পুলিশের সামনেই ব্যবসায়ীরা শার্টার নামিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশ যেন দেখেও দেখছেনা। পুলিশ চলে গেলে আবার যেই সেই। সরকারি নির্দেশনা যেন শুধু কাগজে-কলমে।— এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

প্রতি দোকানে রাতের বাণিজ্যের ‘পারমিশন’ মেলে পুলিশের টহল গাড়ির উপপরিদর্শকের হাতে ৫০ টাকা গুঁজে দিলেই। আর এ টাকা দিলে দোকান খোলা রাখা যাবে সেহরি পর্যন্ত।— প্রতিবেদককে এমনটাই জানিয়েছেন কিছু দোকানদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘ব্যবসাতো করতে হবে ভাই। তাই ৫০ টাকা বখশিশ দিই ঠিক, তবে আমরা অনেকে ইচ্ছে করেই দিই। কারণ সবাই চায় ব্যবসা চালু রাখতে হবে।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) এসএম মেহেদী হাসান মুঠোফোনে বলেন ‘আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি দেখছি। আপনাকে ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন: মাসিক ‘টাকার কন্ট্রাক্টে’ ইপিজেডে ওয়াসার পানি নিয়ে বাণিজ্য— নেপথ্যে ক্যাশিয়ার সুলতান
এমএ/সিএস
