করোনা পরীক্ষার ভুল রিপোর্ট, প্রাভা হেলথকে আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০২১ বৃহস্পতিবার ০৪:৩০ পিএম

চট্টগ্রামের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুস সাত্তার। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২০ মার্চ ঢাকায় যান এনজিওগ্রাম করাতে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া করা যাবেনা এনজিওগ্রাম। তাই তিনি প্রাভা হেলথ এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মিরপুর কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করলে পরদিন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তাঁর রিপোর্ট আসে করোনা পজেটিভ। কিন্তু করোনার কোনো লক্ষণই ছিল না তাঁর শরীরে।

তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে আবার ঢাকার এএনজেড হাসপাতালে নমুনা দেন করোনা পরীক্ষার জন্য। এবার সেখানে ২১ মার্চ স্যাম্পল দিয়ে ওইদিনই ফলাফল আসে নেগেটিভ। এ ঘটনায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে রাজধানীর বনানীর প্রাভা হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তারের পক্ষে এ নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা।

নোটিশটি পাঠানো হয়— প্রাভা হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. জাভেদ হোসাইন এবং জুনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার রেজোয়ান আল রিমনকে।

নোটিশে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত আইনজীবী আবদুস সাত্তার এনজিওগ্রাম করাতে গেলে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া এনজিওগ্রাম করা সম্ভব নয় বিধায় তিনি গত ২০ মার্চ বিকেল ৪টায় প্রাভা হেলথ এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মিরপুর কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেন। পরদিন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তাঁর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে পজেটিভ। কিন্তু তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল না।

কিন্তু ফলাফলে নমুনা সংগ্রহের সময় উল্লেখ করা হয় ২০ মার্চ রাত ৯টা ৩১ মিনিটে। অথচ আবদুস সাত্তারের নমুনা সংগ্রহ করা হয় বিকেল ৪টায়। নমুনা গ্রহণের সময় দেখানো হয়েছে পরদিন দুপুর দেড়টায়। এতে সন্দেহ হয় তাঁর। তাই তিনি আবার ঢাকার এএনজেড হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করালে সেখানে ২১ মার্চ স্যাম্পল দিয়ে ওইদিনই ফলাফল নেগেটিভ পান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, করোনা নেগেটিভ আসার পর আবদুস সাত্তার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে হৃদরোগের চিকিৎসা নেন এবং ২টি রিং প্রতিস্থাপন করেন।

প্রাভা হেলথ থেকে যে রিপোর্ট সেটি ভুল ও মনগড়া। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি তিনি হৃদরোগের চিকিৎসা না করতেন তাহলে তাঁর মৃত্যুর সম্ভবনা ছিল।— এমন অভিযোগ আনা হয় নোটিশে।

আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আমার শরীরে করোনার কোন লক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এমনিতেই হার্টের অসুখ আছে আমার, তার ওপর এই এই রিপোর্ট। যার ফলে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এটি বিশ্বাসভঙ্গের সামিল। আমার ২০ লাখ টাকা আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য আমি নোটিশ দিয়েছি।’

নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে ক্ষতিপূরণের টাকা না দিলে তিনি আদালতে মামলা করবেন বলেও জানান।

রবিউল হোসেন রবি/এসবি/সিএস

Print This Post