মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী | আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০২১ বুুুধবার ০১:২০ পিএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রধান সড়কে সানলাইন, এস. আলম, সৌদিয়াসহ বিভিন্ন যাত্রী সেবা দানকারী বাস সার্ভিস চালু হলেও, সড়ক প্রশস্তকরণ না করায় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পি.এ.বি.) সড়কের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী চৌরাস্তার মোড়, চাম্বল বাজার, নাপোড়া বাজার, টাইম বাজার অংশে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পরও তীব্র যানজট লেগেই থাকে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাথে যোগাযোগের বিকল্প সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাঁশখালী প্রধান সড়কটি।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলার গুনাগরী চৌরাস্তার মোড় হতে রামদাশ মুন্সির হাট ও ডলমপীর মাদ্রাসা এলাকা জুড়ে তীব্র যানঝটের সৃষ্টি হয়। দুঃসহ এই যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কক্সবাজারের সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বাঁশখালীর চাঁনপুর, গুনাগরী, জলদী, টাইম বাজার, মনছুরিয়া বাজার, চাম্বল বাজার ও নাপোড়া বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কোন ধরণের ভুমিকা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকে যানজট।
অন্যদিকে আটকে থাকা সাধারণ মানুষজন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এই বাস্তবতায় বাঁশখালী উপজেলার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এই সড়কের দুই পাশের ফুটপাতও দখল করে আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা। এমতাবস্থায় বাঁশখালী সড়কের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগের (দক্ষিণ) কর্মকর্তারা বলছেন— বাস্তবে রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বেশি। আবার গাড়ির তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। যে কারণে বাঁশখালী প্রধান সড়কে যানজট লেগে থাকে। এরপরও প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি নামছে। কিন্তু রাস্তা বাড়ছে না।
এই সড়কে এস.আলম, সান লাইন, সৌদিয়া, বাঁশখালী সুপার সার্ভিস, বাঁশখালী স্পেসাল সার্ভিস, মালেক শাহ্ সুপার সার্ভিস, লালবোর্ডসহ লোকাল বাসগুলো নিয়মিত চলাচল করে।
অন্যদিকে বাঁশখালী পরিবহন সংস্থা হযরত শাহ্ জালাল শাহ্ আমানত (রাঃ) ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস, বাঁশখালী আল মদিনা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস, বাঁশখালী-পেকুয়া ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস সহ ট্রাক, মিনি ট্রাক, ড্রাম্প ট্রাক সহ বিভিন্ন মালবাহী গাড়ীগুলো দিনের বেলায় রাস্তায় পার্কিং করে মালামাল আনলোড করে।
এছাড়াও সিএনজি চালিত অটোরিক্স ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার সংখ্যাও কম নয়। যার কারণে বাঁশখালীর প্রধান সড়কে দিন দিন যানজট বৃদ্ধি হচ্ছে। ফলে মিনিবাস, বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেও কতক্ষণে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে—।তার উত্তর অজানাই থেকে যায়।
সচেতন মহলের মতে, সড়কটা আরও প্রশস্ত করলে যানজট অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের কোনো উদ্যোগও নেই, নজরও নেই।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও কালীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আ.ন.ম শাহাদত আলম বলেন, ‘বাঁশখালী আসনের মাননীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ হয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতের জন্য বিকল্প সড়কের জন্য সংসদ অধিবেশনে একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে এবং গুনাগরী চৌমুহনী এলাকাটি বাঁশখালী বাসীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। এই এলাকায় যানজট নিরসনের জন্য আমি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছি।’
আরএইচ/সিএস
