মারাই গেলেন স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ সেই ফাতেমা

আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২১ ৮:৩৪ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২১ মঙ্গলবার ০৭:৩০ পিএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ইমাম-ফাতেমা দম্পতির বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি হতো। এরই মধ্যে ফাতেমা মা হয় ২ কন্যা সন্তানের। এ নিয়েও তাকে শুনতে হতো কটুকথা। সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো তাদের। সর্বশেষ দেড়িতে বাড়ি ফিরেছে কেন স্বামী সেটি জানতে চাওয়াই কাল হলো ফাতেমার জীবনের। পাষণ্ড স্বামী রেগে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় শরীরে। অবশেষে দুইদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হার মেনেছে গৃহবধূ ফাতেমা।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিষয়টি সিটিজিসান ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবদুল্লাহ।

নিহত ফাতেমা বেগম (২৩) বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে।

ঘাতক সাইফুল ইমাম একই ইউনিয়ন পরিষদের  ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র।

এর আগে গত রবিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে স্বামীর দেড়িতে বাড়ি ফেরা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় ফাতেমার সঙ্গে। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় স্বামী সাইফুল। এতে ফাতেমার মুখমন্ডলসহ শরীরের প্রায় ৭৫ শতাংশ অঙ্গ দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরবর্তীতে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ঘাতক সাইফুল  ইমাম হোসেন ও তার পিতা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ভূজপুর থানায় এজাহার দায়ের করেছে অগ্নিদগ্ধ ফাতেমার বাবা মো. আব্দুল গফুর।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ হওয়া ফাতেমার আজ সকালে মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর নিহত গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওইদিনই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরএইচ/সিএস