বাঁশখালী প্রতিনিধি | আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২১ রবিবার ১১:১০ পিএম
বৃদ্ধা হাসিনা বানুর সাথে অটোরিকশার যাত্রী হয়ে ওঠেন মো. কমরু নামে এক যুবক৷ হুট করেই বৃদ্ধকে যুবকের প্রস্তাব— সরকারি ত্রাণ নিয়ে দিব। কিন্তু তাতে তুলতে হবে ছবি, দিতে হবে ভোটার আইডি কার্ড। খুশিমনেই রাজি হয় বৃদ্ধা৷ কিন্তু বৃদ্ধার কানে রয়েছে স্বর্ণের কানের দুল এবং গলায় চেইন। তাই কমরু বলে, সেগুলো খুলে রিকশার পেছনে লুকাতে হবে। নাহলে ধনী দেখাবে, ত্রাণ মিলবেনা।
সরলমনে হাসিনা বানু গলার চেইন ও কানের দুল খুলে লুকিয়ে রাখে অটোরিকশার পেছনে৷ এরপর বৃদ্ধার সাথে রিকশা থেকে নেমে দোকানে ছবি তুলতে যাওয়ার ভান করে কমরু৷ হুট করেই তার আরেক সহযোগী সাদেক এবং সে রিকশায় ওঠে এবং রিকশা নিয়ে সটকে পড়ে৷ কিন্তু বেশিদূর যাওয়ার আগেই রিকশাচালকের কৌশলে ধরা পড়ে স্থানীয় জনতার হাতে।
রবিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চানপুর বাজারে এমনই দুই প্রতারক স্থানীয়দের হাতে আটক হয়। এসময় তাদের কাছে দুইটি নকল স্বর্ণের বার পাওয়া গেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
ওই দুই প্রতারক হলো— বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের নাটমূড়া এলাকার মো. সাদেক (২৪) ও মো. কমরু।
ভুক্তভোগী হাসিনা বেগমের নাতি মামুন সজিব বলেন, ‘আমরা আটক করে জিজ্ঞেস করতে তারা শিকার করেছে তারা ত্রাণ দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করা ছাড়াও আরও বিভিন্নভাবে লোকজনকে ধোঁকা দিয়ে থাকে। নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে সুকৌশলে অদলবদল করে নেয় সরলমনা নারীদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার।’
মামুন সজিব বলেন, আজ (রবিবার) বিকেলের দিকে আটক দুই প্রতারক মোহাম্মদ সায়েম নামের এক অটোরিকশা চালকের অটোরিকশায় যাত্রী বেশে উঠে। তারা চালক সায়েমকে তাদের সাথে প্রতারণায় যোগ দিতে বলে। বিনিময়ে তাকে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে জানানো হয়। কিন্তু সায়েম সুকৌশলে দুই প্রতারককে পুকুরিয়া ইউনিয়নে চাঁনপুর বাজারে নিয়ে আসে এবং লোকজন নিয়ে ধরে বেঁধে ফেলে।’
রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদটি লেখা পর্যন্ত তাদের দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে রাতে সাড়ে দশটার দিকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বিষয়টি তার নলেজে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো প্রতারক চক্রকে আমাদের কাছে জনগণ সোপর্দ করেনি৷ তাই আমার নলেজে নেই৷ এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’
বেলাল/আরএইচ
