হুমকি পেয়েও মন্দিরে না যাওয়ার ‘অপরাধে’ পিলারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট: ২৮ জানুয়ারী ২০২১ ৭:৩৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ বৃহস্পতিবার ০৭:৩০ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে চলছিলো জমি নিয়ে বিরোধ। আর সেই বিরোধের জের ধরে ফোন করে দেয়া হয় এলাকার মন্দিরে আসার হুমকি। হুমকি পেয়ে মন্দিরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করার ‘অপরাধে’ বাড়িতে এসে শার্টের কলার চেপে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আর বাঁধা দেয়ায় কিল-ঘুষিসহ শ্লীলতাহানির শিকারও হতে হয় ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে।—এমন ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বলের চৌধুরী পাড়ায়।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) ঘটনার পর ভুক্তভোগী নির্মল কান্তি মহরের পুত্র লিটন কান্তি মহরের ৪ জনকে আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন— বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবোধ কান্তি চৌধুরীর পুত্র প্রবীর চৌধুরী (৪৭), একই এলাকার মৃত ফনিদ্র লাল চৌধুরীর পুত্র রুপন কান্তি চৌধুরী (৫৬), মৃত সুবল কান্তি চৌধুরীর পুত্র তপন চৌধুরী (৬০)ও সমর চৌধুরী (৬৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধা ৭টা নাগাদ জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভুক্তভোগী নির্মল কান্তি মহরেরকে মারধর করে আহত করে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রবীর চৌধুরী, রুপন কান্তি চৌধুরী, তপন চৌধুরী, সমর চৌধুরীসহ স্থানীয় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন যুবক মিলে।

ভুক্তভোগী নির্মল মহরেরের পুত্র ও মামলার বাদী লিটন কান্তি মহরের বলেন, ‘আমার বাবার সাথে তপন চৌধুরীদের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত মঙ্গলবার আমাদের পাড়ার সাধন চৌধুরীর দোকানের সামনে তপন চৌধুরীর সাথে জমি নিয়ে আমার বাবার তর্কাতর্কি হলে আমার বাবাকে চড় থাপ্পড় মারলে একপর্যায়ে আমার বাবা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে রাত ৮টা ১৮ মিনিটে প্রবীর চৌধুরীর মোবাইল নম্বর থেকে আমার বাবাকে ফোন করে আমাদের পাড়ার কালী মন্দিরে আসতে বলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা এতে অপারগতা প্রকাশ করলে রুপন চৌধুরী ও প্রবীর চৌধুরী আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার বাবাকে শার্টের কলার চেপে ধরে নিয়ে আসতে চাইলে আমার মা ও আমার স্ত্রী বাঁধা দেয়। তাদেরকে তখন কিল, লাথি, ঘুষি ও শ্লীলতাহানি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মারধরের একপর্যায়ে আমার বাবাকে জোরপূর্বক মন্দিরের নাচখানায় নিয়ে এসে ২০ হাজার টাকা দাবি করে এবং খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর করতে বলে। আমার বাবা স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে তাকে তপন চৌধুরী ও প্রবীর চৌধুরীসহ তাদের গংরা পিলারের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে এলোপাথাড়ি লাঠি দিয়ে মারতে থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।’

‘এমতাবস্থায় থানা থেকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। এরপর আমার বাবাকে আহত অবস্থায় বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।’— যোগ করলেন তিনি।

এবিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল কবির বলেন, ‘এ ঘটনায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমবিইউ/আরএইচ