মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে কঠোর হচ্ছে সিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০ রবিবার ১০:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) যোগ দিতে গেলেই মাদকাসক্ত নন, এমন প্রমাণ দিতে হবে। সেখানে পরীক্ষায় ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে কোনও পুলিশ সদস্যই সিএমপিতে যোগ দিতে পারবে না— জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের মাদকাসক্ত সদস্যদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ডোপ টেস্টে পজিটিভ সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া অন্য ইউনিট থেকে বদলি হয়ে নতুন কোনও সদস্য সিএমপিতে যোগ দিতে হলে তাকে অবশ্যই ডোপ টেস্টের মুখোমুখি হতে হবে। সেখানে পুলিশ কনস্টেবল হোক আর ডিসি হোক যে পর্যায়ের অফিসারই হোক না কেন যদি পজেটিভ হয় তিনি সিএমপিতে কাজ করতে পারবেন না।’

সিএমপি সূত্রে বলছে, গত চার মাস আগে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দিয়ে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত সদস্যদের তালিকা করতে বলা হয়। এখন পর্যন্ত যেসব বিভাগের কাছ থেকে তালিকা মিলেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এসব সন্দেহভাজনকে ডেকে এনে তারা সত্যিই মাদকাসক্ত কিনা সেজন্য ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। মাদক সেবন করে সন্দেহে গত চার মাসে কনস্টেবল থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার প্রায় ৫০ জনের মত পুলিশ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে কনস্টেবল থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদ মর্যাদার সাতজন পুলিশ সদস্যের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। এ সাতজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়।

নগর পুলিশ কমিশনার হিসাবে সালেহ মোহাম্মদ তানভীর গত সেপ্টেম্বর মাসে যোগদানের পর পরই মাদকাসক্ত সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে ডোপ টেস্টের জন্য। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ সাত দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। কিন্তু বর্তমানে শুধু ইউরিন (মূত্র) ও মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন ব্যক্তি শেষ ১০ দিনের ভেতর কোনও মাদক গ্রহণ করলে তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ডোপ টেস্টের জন্য ৯’শ টাকা ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়। নন স্পেসিফিক পরীক্ষার জন্য ৬’শ টাকা (যার মধ্যে বেঞ্জোডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অফিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস পরীক্ষাও রয়েছে) এবং এলকোহল পরীক্ষার জন্য ৩’শ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়।

সিএস