নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২০ রবিবার ১১:০০ পিএম
কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গোসল করার সময় সাগরের পানিতে তলিয়ে গিয়ে এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে শহরের কলাতলী পয়েন্ট সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টা) তার খোঁজ পায়নি উদ্ধারকর্মীরা।
নিখোঁজ জাহেদুল ইসলাম (১১) কক্সবাজার পৌরসভার পূর্ব কলাতলীস্থ আদর্শগ্রাম এলাকার সোলতান আহমদ ও সাবেকুন্নাহার দম্পতির সন্তান। সে ঈদগাঁও এলাকার একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় কোরআনের হেফজ করছিল।
সী-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান নিখোঁজ শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাহেদুল ইসলামরা ৩ বন্ধু মিলে শহরের কলাতলী পয়েন্ট সৈকতে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তারা স্রোতের টানে সাগরে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয় লাইফ গার্ড কর্মীরা গিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করে। কিন্তু জাহেদের খোঁজ পায়নি।
তবে, মায়ের দেয়া বিবরণ মতে কাপড় পরিহিত জাহেদও ভিড়ের সময় সাগর থেকে উঠে এসেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন। এরপরও আমরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছি।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ স্থানীয় লাইফ গার্ড কর্মীদের নিয়ে সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শিশুটি গোসলে নেমেছিল কিনা তা নিয়েও ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও তল্লাশি চলছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৌশলী ইমরান জাহিদ খান বলেন, ‘সাগর একটু উত্তাল। তাছাড়া ভাটার টানে গোসলে না নামতে বার বার মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ঘোষণা তোয়াক্কা না করে অনেকে গোসলে নামায় বিপদাপন্ন হন। জাহেদরাও সেই একই সমস্যায় পতিত। জাহেদ নিখোঁজ বলে দাবি করায় তার সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালছে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ অক্টোবর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গোসলে নেমে রাজধানীর ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মীরপুর বসুপাড়ার মাহমুদুল হোসাইনের ছেলে ফাতীন ইতমাম মাহমুদের (২৪) মৃত্যু হয়।
তার আগে গত ১৮ আগস্ট লাবণী পয়েন্ট সৈকতে গোসল করার সময় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নিয়াজি ধর্মপুর এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে মাহফুজ (১৯) নিখোঁজ হন। এর ২ দিন পর ২০ আগস্ট মহেশখালীর সোনাদিয়ার মগচর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
আরএইচ
