নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০২০ মঙ্গলবার ০৮:০০ পিএম
যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের নোয়াখালির দ্বীপ-উপজেলা হাতিয়ার এক বিধবা স্কুল শিক্ষিকা।
ওই বিধবা শিক্ষিকার অভিযোগ, উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বারের স্বামী মো. দুলাল নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদেস্যর খাসলোক (ক্যাডার) দাবি করে শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাবের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছে। তবে বিধবা দুলালের অনৈতিক ডাকে সাড়া না দেয়ায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখা ওই দরখাস্তে বিধবা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে এই বিষয়ে আইনগত প্রতিকার পেতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইউএনও ও থানার ওসিকে বিসয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
তবে দুলাল স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপির) খাসলোক জানিয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না বলে সাফ জবাব দেন ইউএনও ও ওসি।
সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসায় গিয়েও বিষটি জানিয়ে যৌন হয়রানির থেকে মুক্তি চান ওই বিধবা শিক্ষিকা। এতে যৌন হয়রানি থেকে মুক্তির পরিবর্তে দুলাল উল্টো বাড়ি ঘরে অত্যাচার শুরু করেছে। ফলে একমাত্র কন্যা ও নিজের জীবন নাশের আশঙ্কায় ওই বিধবা শিক্ষিকা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করেছি মাত্র কয়েকদিন হলো, এখনও মাস গড়ায়নি। ওই বিধবার বিষয়টি যেহেতু অনেক আগ থেকে চলমান। আমি আপনার কাছ থেকে জানলাম মাত্র। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে এই শিক্ষিকার নিরাপত্তায় প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
একই প্রসঙ্গে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘এই ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। হাতিয়ার ইউএনওকে বলে দিচ্ছি, ঊনিই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
জেইউএইচ/আরএইচ
