নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২ অক্টোবর, ২০২০ শুক্রবার ০৯:০০ পিএম
কক্সবাজার সৈকতের গোসল করেতে নেমে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মারা গেছেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিগাল পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছাত্রের নাম ফাতিন ইতমাম মাহমুদ (২৩)। তিনি রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর বাসুপাড়ার সি ব্লকের বাসিন্দা মাহমুদুল হোসাইনের ছেলে। তিনি রাজধানীর ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজ বিকেল চারটার দিকে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে ফাতিন ইতমাম সৈকতের সিগাল পয়েন্টে গোসলে নামেন। তখন সাগরে ভাটা ছিল। হঠাৎ স্রোতের টানে ভেসে যান ফাতিন। পরবর্তী সময়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় লাইফগার্ড কর্মীরা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন ফাতিন ইতমাম। শুক্রবার সকালে তাঁরা কক্সবাজার পৌঁছে সৈকতের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। বিকেলে তাঁরা গোসলের জন্য সৈকতের সিগাল পয়েন্টে নামেন। এ সময় ফাতিন ভাটার টানে ভেসে মারা যান।
উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত লাইফগার্ডের কর্মী আবদুল শুক্কুর বলেন, ‘বেলা তিনটা থেকে সমুদ্রে ভাটা চলছিল। এ সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিষেধ ছিল। তা ছাড়া সিগাল পয়েন্টে গোসলে নামাও নিষিদ্ধ। কারণ, এই সৈকতে একাধিক গুপ্তখাল রয়েছে। তবুও ফাতিন ইতমাম পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে সৈকতে গোসলে নামেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় ফাতিন পানির নিচে ডুবে যান। পরে তাঁকে পানির নিচ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লবণ পানি খেয়ে তাঁর পেট ফুলে গিয়েছিল।’
লাইফগার্ডকর্মীরা বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসে সৈকতের এই পয়েন্টে গুপ্তখালে আটকা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। ভাটার সময় গোসলে নামার নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একাধিক লাল নিশানা সৈকতে ওড়ানোসহ পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রচারণা চালানো হলেও কেউ তা আমলে নিচ্ছেন না।’
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বলেন, ‘শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল ও লাবণী পয়েন্টে আজ অন্তত ১৫ হাজার লোকের সমাগম ঘটেছে। বিশেষ করে বিকেল তিনটার পরে এ সমাগম আরও বেড়েছে। অনেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তাল সমুদ্রে গোসলে নেমে বিপদে পড়ছেন।’
ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ করেছিল জেলা প্রশাসন। এরপর টানা ছয় মাস শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে গত ১৭ আগস্ট থেকে পর্যটকদের জন্য সমুদ্রসৈকত উন্মুক্ত করে দেয় জেলা প্রশাসন। খুলে দেওয়া হয় বিনোদনকেন্দ্রগুলোও। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন। কিন্তু সৈকতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। অধিকাংশ পর্যটক সৈকতে ঘোরাঘুরি করছেন মাস্ক ছাড়াই। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত সৈকতে মাস্কবিহীন ঘোরাফেরার সময় অন্তত ৩০ জনকে জরিমানা করেছেন।’
আরএইচ
