বিয়ের আশ্বাসে ৮ মাস ধরে ধর্ষণ, আদালতে তরুণী

আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২০ ২:২৭ অপরাহ্ন

আদালত প্রতিবেদক | আপডেট : ২ অক্টোবর, ২০২০ শুক্রবার ০২:০০ পিএম

মোবাইল ক্রসকানেকশনে প্রেম। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে ভাড়াবাসায় শুরু হয় ঘরপালানো তরুন-তরুণীর বসবাস। বিয়ে ছাড়াই দীর্ঘ আটটি মাস অতিবাহিত হয় সেই ভাড়া বাসাতেই। এরইমধ্যে অবাধ মেলামেশায় দু’বার অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার পর তরুণীর জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটান প্রেমিক৷

এরপরও বিয়ে করছি-করবো বলে চলতে থাকে যুবকের কালক্ষেপন। আর এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয় চরম দ্বন্দ্ব। বিষয়টি পাশ্ববর্তীরা জেনে যাওয়ায় তাদের দু’জনকে কাজী বাড়ি ডেকে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার।

বিধিবাম, সেই বিয়ের এক মাস না পেরুতেই তরুনীর বাসায় পৌছে যায় প্রেমিকের দেয়া বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার চিঠি (ডিভোর্স লেটার)। অবশেষে প্রতারিত তরুনী স্থানীয় থানা-পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আইনী আশ্রয় না পেয়ে প্রেমিকসহ পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছেন আদালতে। চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী রওশন আরা ঝরণা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তরুনীর করা মামলায় প্রেমিক মো. ইমরান’কে ছাড়াও তাঁর মা- নুরজাহান বেগম ও ভাসুর মো. হারেছ’কে আসামী করা হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশ হাট এলাকার মো. ইছহাকের ছেলে ইমরান।

মামলার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ক্রসকানেকশন প্রেমের সূত্রধরে টাংগাইলের ধনবাড়ি থেকে ভাগিয়ে আনা প্রেমিকাকে নিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শাহপীর কমিউনিটি সেন্টারের পাশ্ববর্তী এক ভাড়া বাসায় উঠেন ইমরান। বিয়ে করার আশ্বাসে সেখানে বসবাস শুরু হয় তাঁদের। একে একে আটটি মাস চলে যায় সেই ভাড়া বাসায়। এরমধ্যে দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর প্রথমে চার মাসের সময় গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে ওই তরুনীর গর্ভপাত ঘটনানো হয়। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের তিন মাসের সময় লোহাগাড়ার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত ঘটান ইমরান।

তরুনীর অভিযোগ, ইমরান বিয়ে না করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধর্ষণ করে তাঁকে। এতে সে দু’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে একলাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিয়ে করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।

ওই তরুনীর দাবি, সে বাড়ি থেকে পালিয়ে ইমরানের কাছে যাওয়ার সময় প্রায় নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়। সেগুলো আত্মসাত করার পর ফের ব্যবসার কথা বলে যৌতুক চায় ইমরান। তবে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিয়ে এক মাসের মধ্যে বেধরক মারধরের পর এক কাপড়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে টাংগাইলের ধনবাড়ির বাসে তুলে দেয়া হয় ওই তরুনীকে। এসকই সময়ে ডাকযোগে পৌছে দেয়া হয় ডিভোর্স লেটার।

প্রতারিত তরুনীর আইনজীবী রওশন আরা ঝরণা বলেন, আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলার পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ধর্ষণের পর একাধিক ভ্রণ হত্যা, নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির কথা মামলায় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।