নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৬ আগস্ট, ২০২০ বুধবার ০৪:৫০ পিএম
শুধু ফুটপাতই নয়, মূল সড়কের একটি অংশও দখলে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের চৌমুহনি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ভাসমান ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় দিনের পর দিন ছোট হয়ে আসছে সড়কের আয়তন। সেখানে যান চলাচলের রাস্তাই ব্যবহার করতে হচ্ছে পথচারীদের। যার ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী স্থানীয় কয়েকজনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে চলে এসব অবৈধ ভাসমান ব্যবসা। মোটা অংকের নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ফুটপাত দখলে দিচ্ছে ভাসমান ব্যবসায়ীদের। প্রতিদিন ও মাসিক হিসেবের ভিত্তিতে অল্প কিছু মাসোহারা নিয়ে সহযোগিতায় করে স্থানীয় প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর চৌমুহনি মোড় থেকে বেপারীপাড়ার দিকে যাওয়ার পথে চৌমুহনি মসজিদ সংলগ্ন দুপাশের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চলছে ভাসমান ব্যবসা। সেখানে রয়েছে কুলিং কর্ণার, একাধিক ফলের দোকান, চায়ের দোকানসহ কলার আড়তের দোকান। এছাড়া ফুটপাতের কিছু অংশ দখলে রাখতে সেখানে রহমানিয়া ও মডার্ণ লাইব্রেরী দুটি সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়।
গত ৫ জানুয়ারি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফকরুল ইসলাম রাজু নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘ফুটপাত ও সড়ক তুমি কার?
তার বক্তব্য—যেখানে মানুষ হাটাঁচলা করার কথা, সেখানে ব্যবসা করছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এতে প্রশাসনের অবহেলায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে সড়কের পরিধি। ফুটপাত দখল হওয়ায় যেখানে সেখানে যানবাহনের সঙ্গে হাঁটছে পথচারীরা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে কোন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে পথচারীদের।
স্থানীয়রা জানান, শহরের বেশ কিছু স্থানে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও চৌমুহনি এলাকায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলে না কোন সংস্থার অভিযান। গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে মানুষের ভিড় বেশি থাকায় ফুটপাতের দোকানের সংখ্যাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব ব্যবসা চলছে।
ফুটপাতে এক কলা বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ‘৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এই স্থানে ঝুঁপড়ি নিজেই নির্মাণ করেছি। জায়গাটি দখলে নিতে ওই সময় আগের যিনি এই জায়গাতে ছিলেন তাকে এককালীন কিছু টাকা দিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আও বলেন, ‘ফুটপাতে টাকা না দিলে কি এইভাবে ব্যবসা করা যায়? কমবেশি সবাইকে তো টাকা টাকা দিতে হয়।’
এবিষয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (বন্দরজোন, প্রশাসন) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ভিআইপি সড়কের আগ্রাবাদ, মঘুলটলি, মিস্ত্রিপাড়াসহ বেশ কয়েক জায়গায় ইতিমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিদিন এসব অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের পর পুনরায় ওই জায়গা ফুটপাত বসালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক সেখানে দোকান বসিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগেও ফুটপাতে যাতে হকারমুক্ত রাখতে সেখানে লোহার রড দিয়ে ঘেরাও দেওয়া হয়। কিন্তু রাতের আধাঁরে এগুলো সরে যায়। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে করপোরেশনকে বলা হয়েছে। তবে এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমি মনে করি।’
এই বিষয়ে ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শ্রীমা চাকমা বলেন, ‘ডবলমুরিং এলাকায় কোন ফুটপাত থাকবে না। পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ করছে। কেউ যদি আইন অমান্য করে ফুটপাত দখল করে, তাদেরকে প্রয়োজনে প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হবে।’
সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ/সিএস
