নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২০ সোমবার ০৩:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলায় মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে। হামলার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারিদের দায়ী করেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই ডা. আলী আশরাফকে মৃত্যর পর সম্মাননা না জানানো, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের কুটুক্তির প্রতিবাদ, বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। কর্মসূচিতে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেয়।
ঘটনার সময় প্রেস ক্লাবের সামনে অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস ও বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিম উল হকের নেতৃত্বে একবদল যুবক মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের উপর হামলে পড়ে। মিছিল নিয়ে এসে লাঠি সোটা দিয়ে পিঠিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ারা ছাড়াও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
পরে পুলিশ-জনতা ধাওয়া করে ২জনকে আটক করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলাকালে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হকের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

হামলায় আহতরা হলেন- মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোজ্জাফফর আহমদ, বাঁশখালী কমান্ডার আবুল হাশেম, সাতকানিয়া কমান্ডার আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল ইসলাম ভেদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অর্থ আব্দুর রাজ্জাক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদীন, জহির উদ্দীর মো. বাবর, ইমরানুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত মো. সাইয়েম, মোব্বাশের হোসেন সোহান, কামরুল হুদা পাভেল সহ বেশ কয়েক জন ফটো সাংবাদিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এমপির পিএস তাজুল ইসলাম ও বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হকের নেতৃত্বে এই হামলায় বাঁশখালীর ৪নং বাহারছড়ার মো. মনজুরুল ইসলাম, ৩নং খানখানাবাদ ইউনিয়ন ডোংরার ফয়জুল মুবিন, ডোংরার শাহে জিসান, চাঁপাছড়ি ৪ নং বাহারছড়ার নূর উদ্দীন মোহাম্মদ রকিসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন অংশ নেয় ওই হামলায়।
জনতার সহায়তায় ঘটনাস্থল ও আশে পাশের এলাকা থেকে ৩ হামলাকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে মুক্তিযোদ্ধা জনতা এক হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে জামালখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হয়।
সমাবেশে যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা এজন্য বাঁশখালীর সাংসদ মুস্তাফিজুর রহমানকে দায়ী করেন।
সমাবেশে মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সকল পদ ও সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান।
সিটিজিসান ডটকম/সিএস
