বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালন চবিতে

আপডেট: ৯ জুন ২০২০ ৬:২২ অপরাহ্ন

অমিত কান্তি সিকদার | আপডেট : ০৯ জুন, ২০২০ মঙ্গলবার ০৫:৩০ পিএম

করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবন্ধ থাকার স্বত্বেও ভার্চুয়ালে বিশ্বসমুদ্র দিবস পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিসারিজ অনুষদ।

সোমবার (৮ জুন) মেরিন সায়েন্সেস ও ফিসারিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘অক্টোফিনের’ সহযোগিতায় অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্স, প্রেজেন্টশন, ভিডিওগ্রাফি ও লাইভ অনলাইন সেশনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

এসময় সমুদ্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ডক্টর রাশেদ-উন নবী, ডক্টর মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম ও মোহাম্মদ সায়েদুল ইসলাম সরকার ও সমুদ্রের নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিন খন্দকার বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে সমগ্রবিশ্বে প্রতি বছর ৮ জুনকে কেন্দ্র করে বিশ্বসমুদ্র দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাগর-মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। লকডাউন থাকা সত্বেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ ধরণের উদ্যোগ আমাদের জ্ঞাণের পরিধিকে বৃদ্ধি করবে।’

মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি নিয়ে প্রফেসর ডক্টর রাশেদ-উন নবী বলেন, একটি সুস্থ সমুদ্র আমাদের জন্য জীবিকা, ইকোনমিক গ্রোথ ও খাদ্যের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মেরিন স্পেশিয়াল প্ল্যানিং ‘ব্লু ইকোনমি বেইজড বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে।

সমন্বয়হীনতা সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক সম্ভবনার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশর সমুদ্র সীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর আমরা যে বিশাল অর্থনৈতিক সমুদ্র সীমারেখা পেয়েছি তার যথাযথ মূল্যায়ণের মাধ্যমেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এই দেশকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে—আরও যোগ করেন প্রফেসর ডক্টর রাশেদ-উন নবী।

চবি সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডক্টর ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘২০২০ সাল নাগাদ সমুদ্র-মহাসমুদ্রের শতকরা ১০ ভাগ প্লাস্টিক দ্বারা দূষিত হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ২০২৫ সাল নাগাদ মহাসমুদ্র থেকে ৩ টন মাছের সঙ্গে ১ টন প্লাস্টিক উঠে আসবে। যা ২০৫০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৩ টন প্লাস্টিকের সাথে ১ টন মাছের প্রাপ্যতায়’— ‘সেখানে
এই দূষণ কমাতে হলে অবশ্যই প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে হবে।’

চবি সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়েদুল ইসলাম সরকার বলেন,‘পৃথিবীর ফুসফুস হচ্ছে মহাসমুদ্র। বায়ুমন্ডলের মোট অক্সিজেনের শতকরা ৫০-৮৫ ভাগ আসে মহাসমুদ্র থেকে। সরকার শিল্প, শক্তি, সংরক্ষণ ও বিনোদন একত্রিত করে সামুদ্রিক স্হানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সামুদ্রিক অর্থনীতি জোরদার করা সম্ভব।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস