চট্টগ্রাম | আপডেট : ৩০ এপ্রিল, ২০২০ বৃহস্পতিবার ০০:১০ পিএম
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানা এলাকায় পুলিশের হেফাজতে টেরিবাজারের এক বৃদ্ধ দোকান কর্মচারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কর্মচারীদের মারধরেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেলেও সেখানে পুলিশের দাবি মারধর নয় তিনি ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে টেরিবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া ওই দোকান কর্মচারীর নাম গিরিধারী চৌধুরী (৬০)। তিনি প্রার্থনা স্টোর নামে একটি দোকানে চাকরি করতেন।
এদিকে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটিও।
নিহত গিরিধারী চৌধুরী পটিয়ার হাইদগাঁওয়ের বাসিন্দা। তার এক মেয়ে কক্সবাজারে পুলিশ কনস্টেবল ও মেয়ের জামাই পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক, যিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র্যাবে দায়িত্বরত আছেন।
তবে বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়িতে রাত সাড়ে ৯টা দিকে কোতোয়ালী থানার কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা ও টেরিবাজারের ব্যবসায়ী নেতারা সমঝোতা বৈঠকের বসেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা। ফাঁড়ির বাইরে পুলিশের পাঁচটি গাড়ি দেখা গেছে রাত ১১টায়ও। ফাঁড়ির সামনে এ সময় ৩০-৪০ জনকে অভিযুক্ত এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এর আগে, ১৭ এপ্রিলও টেরিবাজারের ৬ নম্বর গলিতে এক কর্মচারীকে বেধড়ক পেটান এএসআই কামরুল।
জানা যায়, নিজের কর্মস্থল থেকে থেকে দুই বস্তা মালামাল বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই দোকানের কর্মচারী গিরিধারী চৌধুরী (৬০)। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা বন্ধ থাকায় টেরিবাজারে নতুন কোন মালামাল ঢোকানো ও বাজার থেকে মালামাল বের করায় ব্যবসায়ী সমিতির নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে তাকে আটকায় বাজারের টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কর্মচারীরা।
এ সময় মাসুদ ও কফিল নামে ওই দুই কর্মচারী গিরিধারী চৌধুরীকে বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তারা গিরিধারীকে মারধর করে। মাসুদ ও কফিলের বিরুদ্ধে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তারা দুজনেই টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
জানা যায়, ওই দুই কর্মচারীর মারধরের পর কোতোয়ালী থানার এএসআই কামরুল ইফতারের ১৫-২০ মিনিট আগে ঘটনাস্থলে এলে তিনিও তাকে মারধর করে ফাঁড়িতে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মোহাম্মদ হাসান নামে টেরিবাজারের এক ব্যবসায়ী।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কর্মচারী মো. মাসুদ বলেন, ‘বাজার থেকে কোন মালামাল বাইরে নেওয়ায় নিষেধ আছে সমিতির। তাই আমরা তাকে আটকাই। এ সময় টহলে থাকা টেরিবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সেখানে পৌঁঁছে। এএসআই কামরুল সহ আরও দুজন পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন ওই টহল দলে। তারা সেখানে পৌঁছার পর গিরিধারী চৌধুরীকে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে তার দোকান মালিককে কল করতে বললে হঠাৎ করে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, তিনি হার্টের রোগী ছিলেন। আগেও ৩ বার স্ট্রোক করেছেন। তবে আমরা তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছি। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ১ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত এএসআই কামরুলসহ আরও দুই কনস্টেবলকে ক্লোজ করে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলতে পারবো তিনি জানান।
সিটিজিসান ডটকম/সিএস
