মুক্তিযোদ্ধা ও সংখ্যালঘুদের ফসলী জমির মাটি লুটের অভিযোগ!

সুজাউদ্দিন তালুকদার :: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদের হাজারবিঘা গ্রামে ২০ সংখ্যালগু পরিবারসহ এক মুক্তিযোদ্ধার আবাদী জমিতে তা-ব চালিয়েছে সংঘবদ্ধ এক বালুদস্যু। গত ১৫ দিন ধরে ওই গ্রামের ফসলী জমির বালুমাটি জোর পূর্রক তুলে নিয়ে যাচ্ছে এই বালুদস্যুরা। এতে বাধাদিয়ে গিয়ে হামলার শিকার হন গ্রামবাসীসহ ওই ফসলীজমির মালিকরা। বালুদস্যুদের এই হামলা থেকে নিস্তার মিলেনি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মচারীদের। গ্রামির অভিযোগের ভিত্তিতে জমির বালুতোলায় বাধা দেয়ায় পিটিয়ে রক্তাক্ত করে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধাসহ ফসলীজমির মালিকরা। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মো. দোলোয়ার হোসেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালগু পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজ আমি বড়ই ক্লান্ত ও অসহায়। এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, একাধিক খুনের মামলার আসামি, বালু দস্যু বাদশা খালেদ হাজারবিঘা গ্রামে বিভিন্ন মালিকের জমি থেকে বোলডোজার দিয়ে টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নিজের জমি থেকে জোর করে প্রায় ২০/২৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে গেলেও কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারছিনা। কেউ প্রতিবাদ করলে লোহার রড, হাতুড়ি এবং বাম দা নিয়ে কুপিয়ে আহত করছে। নারী-শিশুদের পর্যন্ত অত্যাচার করছে।

প্রশাসনের ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলে গত ৪ ডিসেম্বর লোহাগাড়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওই এলাকায় পরিদশনে গেলে তাদের উপর হামলা চালায় বাদশা খালেদের বাহিনী।

এ বিষয়ে বাদশা খালেদসহ তার বাহিনীর লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তারপরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সাহস পাচ্ছেনা। তিনি বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর লোহাগাড়া থানা অভিযান চালিয়ে দুটি ট্্রাক ও মাটি কাটার একটি স্কেবেটর জব্দ করে। কিন্তু তার তিনঘন্টা পর বাদশা খালেদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে ১৫টি ট্্রাক নিয়ে পুরো এলাকার ফসলী জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশকে পুনরায় জানানো হলে অদৃশ্য কারণে পুলিশ অভিযানে যেতে অপরাগত প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাপসী দাশ বলেন, সন্ত্রাসী বাহিনীটি এতই শক্তিশালী এলাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকার অধিকাংশ সংখ্যালঘুর ভিটে ও ফসলী জমি থেকে জোর করে মাটি নিয়ে গেলেও কেউ কিছু বলতে পাচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নিখিল দাশ বলেন, আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু এত অসহায় কখনো ছিলাম না। যুবলীগের নাম ব্যবহার করে বাদশা খালেদ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এতে প্রশাসনও তটস্থ। বিচার নিয়ে কোথায় যাবো আমরা। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ক্ষতিগ্রস্ত ফসলীজমির মালিকদের একজন বৃদ্ধ মোহাম্মদ হোসাইন।##

Print This Post