জেল থেকে বিএনপি নেতা শাহাদাতের চিঠি

আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ০১:০৫ পিএম |

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে নগরবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

গতকাল সোমবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী চিঠিটি সিটিজিসান ডটকমকে পাঠিয়েছেন। লিখিত এই সাতপৃষ্ঠার চিঠিটি হুবহু পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হল-

আসসালামু আলাইকুম,

আমি ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টলাবাসীর প্রতি রইল অন্তিম ভালবাসা। আমি চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতয়ালি-চকবাজার) সংসদীয় আসনের প্রার্থী। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন সেল থেকে আপনাদের কাছে আমি আমার কিছু কথা তুলে ধরছি আজ। আশা করি প্রিয় চট্টলাবাসী ভাল আছেন এবং সবার সুস্থ্যতা কামণা করছি।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্টে ঢাকায় গ্রেপ্তাকৃত চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে সাক্ষাত করতে গেলে সেখান থেকে ডিবি পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাকে গ্রেপ্তার করা হল যখন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট আওয়ামীলীগ মহাজোটের সাথে ঐতিহাসিক সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের সাহেব ঘোষণা করলেন বিরোধীদলের আর কোন নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে কোন গায়েবী মিথ্যা মামলা দেয়া হবে না। অথচ এর ঠিক দু’ঘন্টার মধ্যে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো বিনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায়।

ওই সময় ডিবি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম আমাকে গ্রেপ্তার করা হল কেন? আমার অপরাধ কি? উত্তরে বলা হল- আপনি নির্বাচন করবেন এটাই আপনার অপরাধ। আপনি একজন জনপ্রিয় নেতা, এটাই আপনার আপনার অপরাধ। এরপরে ঢাকায় ৫৪ ধারায় একটি মামলা দেখিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে একদিন, পরে কাশিমপুর কারাগারে প্রায় ১৫ দিন রেখে সেখান থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আমি ঢাকা থাকতেই চট্টগ্রাম আমার বিরুদ্ধে ১০টি গায়েবী মামলা করা হয়। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম কোর্টে আমাকে হাজির করা হয়। পরে আদালত আমার জামিন নামঞ্জুর করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আদালত থেকে বলা হয়েছে আমাকে ডিভিশনের দেয়ার জন্য। কিন্তু কারাগার আমাকে তা না দিয়ে যথারীতি আমাকে নির্জন সেলে রাখা হয়। অথচ যেখানে ফাঁসির আসামিরা থাকে। চট্টগ্রাম কারাগারে আসার পর গত ১০ দিনেও আমার মায়ের সাথে এখনও পর্যন্ত দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

এখানে এসে দেখছি মিথ্যা ও গায়েবী মামলায় হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। আজ দেশে দুণীর্তি, দুঃশাসন, গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। গুম, গুপ্ত হত্যা, নির্যাতন, মামলা, হামলা, বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার। গত ১০ মাস ধরে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায় বাকলিয়া কোতয়ালি চকবাজারসহ চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সর্বস্থরের জনসাধারণের কাছে একান্ত অনুরোধ রইল গত ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একজন রাজনীতিবিদ, পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলাম, আছি ও আজীবন আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ। আমি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে, কখনও অগ্নিদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে, বন্যাদুর্গত এলাকায় কিংবা পাহাড় ধসে অসহায় পরিবারদের মাঝে। বার বার রাজপথে আন্দোলন করেছি, আপনাদের যৌক্তিক হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর দাবি নিয়ে কিংবা বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহের দাবি নিয়ে দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির প্রতিবাদ কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি নিয়ে।

আজকে যারা আমাকে কিছু গায়েবী মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী রেখে খোলা মাঠে গোল দিতে চায়, হয়তোবা দেখা যাবে এরা এ সংসদীয় আসনের ভোটারও না। তাদের এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা একজন নিজেকে বেগম খালেদা জিয়া কিংবা ডা. শাহাদাত হোসেন মনে করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুণীর্তিমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হউন। যে বাংলাদেশ হবে নিরাপদ, যেখানে আমার ছাত্র-ছাত্রী ভাই-বোনদের যৌক্তিক কোটা সাংস্কারের দাবি পূরণ হবে। ৪ কোটি বেকার তাদের কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজে পাবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও সাম্যতা-মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

সংগ্রামী আমার চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের এলাকাবাসী, আপনাদের প্রতি দেশের এই চরম কান্তিকালে অনুরোধ থাকবে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার ভোটের অধিকার স্ব স্ব ভোট সেন্টারে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করুণ। ধানের শীষ প্রতীকে আপনার একটি মূল্যবান ভোট অন্ধকার কারাগারে থেকে আমাদের দেশমাতার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমি সহ হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবী মামলার শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী আছি, তাদের মুক্তির পথ দেখাবে, ইনশাল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোক
আল্লাহ চাইলে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত হবে। গণতন্ত্র মুক্তি পাক, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
ধন্যবাদান্তে/ শ্রদ্ধান্তে
ডা. শাহাদাত হোসেন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের প্রার্থী।

সিএস/সিএম/এসআইজে