চট্টগ্রামে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার’ ছড়াছড়ি

আপডেট: ১১ মে ২০১৭ ৪:০৬ অপরাহ্ন

31

অনলাইন ডেস্ক :: গণহারে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে পদ পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা থেকে ১৩ জনকে সদস্য পদ দেয়া হয়েছে। এর ফাঁকে বিবাহিত, অছাত্র এবং রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ একেবারে কম বয়সীরাও হয়ে যাচ্ছেন ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা’।

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এভাবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্য পদ দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশে সদস্য পদ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের ঘোষিত নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ কর্মসূচির জন্য বাছাই করে কর্মসূচিভিত্তিক কিছু সদস্যপদ দেয়া হচ্ছে। তারা কোনভাবেই গঠনতান্ত্রিক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নন।

‘প্রোগ্রামটা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের প্রচুর ছেলে দরকার। সেজন্য সারাদেশ থেকে বাছাই করে টিম করছি। আমাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও আমরা কর্মসূচির জন্য সদস্য নিয়োগের কথা বলেছি। তবে পরে তাদের মধ্যে আরও যাচাই বাছাই করে যারা যোগ্য তারা হয়ত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে পদ পেতে পারেন।’

ছাত্রলীগ সভাপতি কর্মসূচিভিত্তিক সদস্য নেয়ার কথা বললেও পদ পাওয়া নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে নিজেদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছেন। আবার তাদের যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেখানেও কর্মসূচির বিষয়টি উল্লেখ নেই বলে আলাপকালে জানিয়েছেন নতুন পদ পাওয়া কয়েকজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, গঠনতন্ত্রের কোন ক্ষমতাবলে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এভাবে কেন্দ্রীয় সদস্যপদ দেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানি না। আমার বয়স মাত্র দেড় মাস বেশি হওয়ায় আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে পদ পাইনি। আর এখন পাঁচ বছর আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া নেতাও পদ পাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।

উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল করিম সাউকী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং সদস্য সুরুজ ও জেমী কেন্দ্রে পদ পেয়েছেন।

সূত্রমতে, ছাত্রত্বহীন সাউকী এক বছর আগে বিয়ে করেছে। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান বলেন, সাউকীর বাড়ি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকাটা জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত হওয়ায় তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। অথচ বিএনপি-জামায়াতের আমলে দুঃসময়ে সাউকী ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল।

‘সাউকী বিয়ে করেছে এটা আমি অস্বীকার করব না। কিন্তু বিয়ের আগেই সাউকীর নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে পাঠানো হয়েছিল।’ বলেন ইরান।

নগর ছাত্রলীগ থেকে পদ পাওয়াদের মধ্যে আছেন রুমেল বড়ুয়া রাহুল, ওয়াহিদ রাসেল, রেজাউল আলম রনি, সনেট চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ আল জোবায়ের হিমু, রাজেশ বড়ুয়া, মো. হাসান এবং ইরফানুল আলম জিকু।

নগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, এদের মধ্যে একজন একটি কলেজের একেবারে কনিষ্ঠ নেতা। মাঠের রাজনীতিতে তার খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। বাকিদের মধ্যে তিনজনের ছাত্রত্ব নেই।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. উপল চাকমাও পদ পেয়েছেন। চার বছর আগে ছাত্ররাজনীতি থেকে উপল বিদায় নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রমতে, চট্টগ্রাম থেকে অতীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশ অনুযায়ী সদস্যপদগুলো দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ছাত্রলীগ এবং দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতারা কোন সুপারিশ পাঠাননি।

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ কাকে নেতা বানাবে এটা তাদের সাংগঠনিক বিষয়। এখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশ করার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন ধরনের সুপারিশ কারও জন্য করিনি। সূত্র-বানি

সিটিজিসান.কম/রবি