চট্টগ্রামে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছুরিকাঘাত

আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৭ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম :: নগরীর চান্দগাঁও থানার সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় মুঠোফোনে কথা বলতে আপত্তি করায় শারমিন আক্তার (২৩) নামের এক পোশাক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।

আহত শারমিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চান্দগাঁও এলাকার মো. রুবেল তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত শারমিনের বড়বোন বেবি আক্তার বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় তাঁর বোন চান্দগাঁও এলাকায় তাঁর বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার পোবাদিয়ায়। বেবির অভিযোগ, চান্দগাঁও এলাকার রুবেল নামের এক যুবক এক বছর ধরে তাঁর বোনকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। মুঠোফোনেও প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। লোকলজ্জার ভয়ে থানা-পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি।

বেবি বলেন, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে শারমিন বাসা থেকে বের হয়ে কারখানার উদ্দেশে রওনা হন। পথে রুবেল তাঁর গতিরোধ করে কথা বলার চেষ্টা করলে বাসায় চলে আসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শারমিনকে সঙ্গে করে তিনি রিকশাযোগে কারখানার দিকে রওনা হন। এ সময় রুবেল চাপাতি নিয়ে রিকশার সামনে দাঁড়ান। বাধা দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। মুঠোফোনে শারমিন তার সঙ্গে কেন কথা বলে না তার কারণ জানতে চান রুবেল। কথা বলতে বলতে শারমিনের বাম হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ মেরে পালিয়ে যান রুবেল। আশপাশে লোকজন থাকলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা শারমিনের চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরছে। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বলেন, রুবেল কারখানায় যাওয়ার সময় পথে এবং মুঠোফোনে বিরক্ত করত। ফোন না ধরলে নানাভাবে হুমকি দিত। সে ভালো নয় জানার পর তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেন তিনি। বেশ কয়েকবার সে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিল। তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি মেরেছে। সুস্থ হওয়ার পর রুবেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলে জানান শারমিন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রুবেলকে আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।

সিটিজিসান.কম/রবি