দলে ‘কাউয়া’-দের তালিকা করবে আ.লীগ

আপডেট: ৩০ মার্চ ২০১৭ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

obaidul-kader

অনলাইন ডেস্ক :: আওয়ামী লীগে ‘কাউয়া’ ঢুকেছে বলে বেশ কয়েকবার দাবী করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সব খাঁটি মানুষ, খাঁটি কর্মী! ভেতরে ভেতরে কাউয়া (কাক) আছে। তারা একাত্তরেও ছিল, এখনো আছে। ক্ষমতার সঙ্গে কাউয়া ঢুকে যায়। আর কিছু কিছু নেতা দল ভারী করার জন্য কাউয়াদের লিস্টের মধ্যে নাম ঢুকিয়ে দেয়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দু’দফা ‘কাউয়া’ নিয়ে নিয়ে কথা বলার পর দলের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে ‘কাউয়া’ অর্থাৎ হাইব্রিড ও সুযোগ সন্ধানী নেতাদের তালিকা করে তাদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘কাউয়া’ বলতে দলের সাধারণ সম্পাদক হাইব্রিডদেরকেই বুঝিয়েছেন। এসব হাইব্রিড নেতারা সময় বুঝে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করছে। এমন একটি তালিকা প্রস্তুত করার নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছে। এমনকি হাইব্রিড নেতাদের গত ৮ বছরে দলের জন্য কি কি অবদান এবং নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কী উন্নয়ন হয়েছে, অথবা তার পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে কী কী সুবিধা আদায় করেছেন সে বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।

কবে নাগাদ এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হতে পারে বলে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত রয়েছেন। এসব হাইব্রিডদের জন্য আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত নেতাকর্মীরা দলে কোণঠাসা। ফলে আগামী নির্বাচনে আগে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হাইব্রিড বা কাউয়াদের বহিষ্কারও করা হতে পারে।

এর আগে রাজধানীর লালবাগের আজাদ মাঠে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এবং ২২ মার্চ সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কাউয়া কারা, এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

ওই প্রতিনিধি সভায় কাদের বলেন, ‘প্রচার লীগ, তরুণ লীগ, কর্মজীবী লীগ, ডিজিটাল লীগ, হাইব্রিড লীগ আছে। কথা হাছা, সংগঠনে কাউয়া ঢুকছে। জায়গায় জায়গায় কাউয়া আছে। পেশাহীন পেশিজীবী দরকার নেই।’

কাদের আরও বলেন, নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’, শেষে ‘লীগ’, নামে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দোকানের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে অনুমোদন না থাকলেও এসব সংগঠনের নেতারা আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন দফতরে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দিন দিন নতুন নতুন সংগঠন বেড়েই চলেছে। ‘জয় ডিজিটাল মাতা শেখ হাসিনা আইসিটি লীগ’ নামে নতুন একটি সংগঠনের ব্যানার ও কার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এর আগে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।

আরও সংগঠনের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু আদর্শ বাস্তবায়ন সংসদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ বাস্তবায়ন লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা লীগ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, চেতনায় মুজিব, আমরা মুজিব সেনা, বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতা পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, জননেত্রীর সৈনিক, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, শেখ রাসেল শিশু পরিষদ, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ, ড. এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন প্রভৃতি। ‘আওয়ামী’ ও ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার করে গড়ে তোলা সংগঠনগুলো হচ্ছে আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু যুব সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী যুব স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী শিশু-কিশোর লীগ, আওয়ামী অভিভাবক লীগ, আওয়ামী কর্মজীবী লীগ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী প্রচার ও প্রকাশনা লীগ, আওয়ামী পর্যটন লীগ, আওয়ামী নবীন লীগ, আওয়ামী স্বাধীনতা লীগ, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ, আওয়ামী ইয়াং বাংলা লীগ, আওয়ামী সৈনিক প্লাটুন, মুক্তিযোদ্ধা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, তরীকত লীগ, চলচ্চিত্র লীগ, মত্স্যজীবী লীগ, ছিন্নমূল মত্স্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র মত্স্যজীবী লীগ, রিকশা মালিক লীগ, রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ঘাট শ্রমিক লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাম নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমুক্তি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি প্রতিরোধ কমিটি, প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ সমাজকল্যাণ যুব সংঘ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা, আমরা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ প্রভৃতি। এর বাইরেও ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক’ সংগঠন দাবি করে গড়ে ওঠা বাহারি নামে আরও কিছু সংগঠনের অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে আমরা নৌকা প্রজন্ম, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল আওয়ামী লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিষদ, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন, সাধনা সংসদ, জাতীয় মুক্তিবাহিনী ’৭৫, জনতার প্রত্যাশা, ২১ আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, পরিবর্তন ফাউন্ডেশন, সোনার বাংলা গঠন পরিষদ, সম্মিলিত যুব-পেশাজীবী পরিষদ, অরোরা ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।

সিটিজিসান.কম/রবি