কুয়েতে মাদক সম্রাট হানিফের ফাঁদে আটক মিরসরাইয়ের ফারুক

আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৭ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

মাদক সম্রাট হানিফ
মাদক সম্রাট হানিফ

আবু সাদেক রিপন, কুয়েত :: কুয়েতের মাদক সম্রাট হানিফের ফাঁদে আটকে প্রায় ২ বছর যাবৎ কুয়েত সোলাবিয়া খাত সেন্টোর জেলা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ফারুক হোসেন।

সে মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের (৫ নম্বর ওয়ার্ডের) দক্ষিন অলিনগরের সুলতান আহম্মদের পুত্র হানিফ। সে কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে গাজা, হিরোয়িন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই সকল মাদক হানিফ ৬/৭ মাস পর পর ছুটিতে এসে নিয়ে যেত আবার দেশ থেকে কেউ আসলে কৌশলে জরুরী চালানির কথা বলে নিয়ে আসত। তার এই চালনির ফাঁদে আটকে পড়ে একই উপজেলার হিঙ্গুলি ইউনিয়নের (৪ নম্বর ওয়ার্ডের) জামালপুর গ্রামের গ্রামের ফয়েজ আহম্মদের পুত্র ফারুক হোসেন শুক্রবার ২০১৫ সালের ২০ মার্চ বাড়ি থেকে কুয়েতে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার ৩০ মিনিটি পূর্বে হানিফের এক খালাতো ভাই মোতালেব গরুর মাংস নিয়ে আসে হানিফকে দেয়ার জন্য। প্যাকেটে মাংসের গন্ধ দেখে পাশবর্তী এলাকার লোক তাই সরল মনে চেক না করে ব্যাগে রাখে। কে জানতো মাংসের চালানির বদলে ১ কেজি গাঁজা দিয়ে ফারুকের জীবনকে এভাবে এলোমেলো করে দিবে।

বাংলাদেশে ইমিগ্রেশনে ধরা না পড়লেও কুয়েত ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তল্লাশি করতে ধরা পড়ে ১ কেজি গাঁজা। মাদক মামলায় ফারুক কুয়েতের সেন্টার জেলে পাঠানো হয়েছে। তার দুই মাস পর হানিফ কে মাদক ও চুরির মামলায় আটক করে কুয়েত পুলিশ সেখান থেকে কয়েক মাস জেল খেটে টাকার মাধ্যমে ওয়াস্তা দিয়ে দেশে চলে আসে।

বর্তমানে সে এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কুয়েতে আদালতে বিচারাধীন মামলার আইনজীবি তালাল এাজি বলেন, হানিফ দেশে চলে যাওয়ার কারণে মামলার জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে ফারুক কে বাহির করা যাবে তবে সময় লাগবে এবং অনেক টাকা ব্যাপার। এদিকে জেলখানার বদ্ধ রুম থেকে ফারুক তার ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত কিছু লেখার সুযোগ না পেলেও শুধু এটুকু লিখেছে। এটা হল হানিফ এ আমার জীবন টাকে এলোমেলো করে দিল। দেশে ফারুকের বৃদ্ধা মা নুরের নাহার আহাজারি থামছেই না।

এদিকে ছেলের শোকে বাবরুদ্ধ প্রায় তবুও কান্না কন্ঠে বিলাপ করতে করতে বলেন, সকলের সহযোগিতার আল্লাহ রহমতে আমার বুকে মানিক যেন তার বুকে ফিরে আসে, আমি আমার ছেলেকে দু নয়ন ভরে দেখতে চাই। নববিবাহিত ফারুকের সুখের সংসারে যে বিষাদে ভরে দিয়েছে আল্লাহ যেন সেই হানিফের বিচার করে। ফারুকের মত এই রকম ভুল যাতে আর কেউ না করে বিদেশ যেতে কারো চালনি নিলে যেন চেক করা ছাড়া ব্যাগে না রাখে। আর যেন আমার মত কোন মায়ের বুক কান্নায় ভেসে না যায়।

সিটিজিসান.কম/শিশির