সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে গ্রীনটেক

আপডেট: ৪ জানুয়ারী ২০১৭ ৮:৫৪ অপরাহ্ন

green-tech-pic

নির্দেশ বড়ুয়া, সীতাকুণ্ড করেসপন্ডেন্ট :: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ এলাকায় গড়ে উঠা স্ক্রাপ জাহাজ ভাঙ্গাঁর প্রতিষ্ঠান শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডকে কৃত্রিম লোহার খনি বলা হয়।

একসময় ১৪১ টি শীপ ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙ্গাঁর কার্য্যক্রম চললেও ইয়ার্ড মালিকদের অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার কারণে বর্তমানে শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে এসে দাড়িঁয়েছে ৩৫ টিতে। বর্তমানে এটি ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।

২০০৭ সালের দিকে সীতাকুণ্ডে প্রত্যেকটি শীপ বেকিং ইয়ার্ডকে পরিবেশ বান্ধবমুখী শীপ ইয়ার্ড করার জন্য শিল্প মন্ত্রনালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় নানামুখী চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে এক পর্যায়ে শীপ ইয়ার্ড মালিকদের দ্বারা গঠিত বাংলাদেশ শীপ ব্রেকিং এসোশিয়েশন বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সমূহের কর্মকতাদের উপস্থিতিতে প্রত্যেকটি শীপ ইয়ার্ডকে পরিবেশ বান্ধব উপযোগী করে গড়ে তোলে।

এদিকে বেসরকারী এন জি ও প্রতিষ্ঠান বেলা তৎকালীন সময়ে সীতাকুণ্ডের শীপ ইয়ার্ড সমূহে শিশু শ্রমিক নিয়োগ সহ নানামূখী অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে শীপ ব্রেকিং মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এই জাহাজ ভাঙ্গাঁ শিল্পটি মুখ থুবরে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। শিল্পটি রক্ষা করতে শীপ ইয়ার্ড মালিক কর্তৃপক্ষ, কাটিং কনক্ট্রাক্টর এশোসিয়েশন শ্রমিকরা, এ শিল্পের স্ক্যাপ মালমালের ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিগণরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করে।

এর ফলে এ যাত্রায় কোন রকমে শিল্পটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। নানা চড়াই উৎরাই করে টিকে থাকা শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুলো পর্যবেক্ষনে রাখতে বেলার মত বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এযাবৎকাল তদারকি করে আসছিল।

তবে এত নজরদারীর মধ্যেও এসব শীপ ইয়ার্ডে বিগত চার থেকে ৫ বছরে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিকের বিভিন্ন দূঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃক ২০১১ সালে শীপ ব্রেকিং সেক্টরটিকে শীপ পূনরপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প হিসেবে ঘোষণার পর সরকারের পাশাপাশি উক্ত শিল্পের বিকাশে ও ভাবমূর্তি উজ্জল করতে জাহাজ ভাঙ্গাঁ শ্রমিকদের পুর্নাঙ্গ নিরাপত্তা বিধানে ও অধিকার সংরক্ষণে শিল্প মন্ত্রনালয় কতৃর্ক অনুমোদিত ও শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘গ্রীনটেক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান বিগত ২ মাস আগে শীপ ব্রেকিং শিল্প এলাকায় কাজ শুরু করেছে। সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ইয়ার্ড মালিকদের অবহিত করে প্রত্যেকটি ইয়ার্ডে কর্মরত জাহাজভাঙ্গা শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শ্রমিকদের জাহাজ ভাঙ্গায় দক্ষ করে তুলছেন।

সরজমিনে ইয়ার্ড সমূহে গিয়ে দেখা গেছে বিগত ২ মাসে সীতাকুণ্ড শীপ ইয়ার্ডগুলোতে দূর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরনের ঘটনা শুন্যের কোটার কাছাকাছি চলে এসেছে।

এ ব্যাপারে জনতা স্টীল কর্পোরেশনের ইয়ার্ড ম্যানেজার মো.আজম মিয়াকে গ্রীনটেকের সেইফটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংস্থাটির দ্বারা আমাদের ইয়ার্ডের শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ পেয়ে বর্তমানে অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছে। দূর্ঘটনা বলতে গেলে খুব একটা এখন আর ঘটে না। কারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আমাদের শীপ ইয়ার্ড মালিকরা ও আমরা গ্রীনটেক সেইফটি এজেন্সি দ্বারা প্রশিক্ষিত।

সিটিজিসান.কম/রবি