অনলাইন ডেস্ক ::
সম্প্রতি কলকাতায় গিয়েছিলেন অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশের যশোরের শার্শা উপজেলার এক ব্যবসায়ী। সেখানে গিয়েই তিনি অপহরণের স্বীকার হন। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ মহসিন কবীর (৩৫) নামে ঐ ব্যবসায়ী অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা করাতে গত সোমবার কলকাতায় আসেন। এখানে এসে উঠেছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবরায় এক বন্ধুর বাড়িতে। অনেক বছর ধরেই কবিরের সঙ্গে পরিচয় ছিল হাবরার বাসিন্দা শিবব্রত চক্রবর্তীর সঙ্গে। শিবব্রত ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন।
পরে চলে যান ভারতে। হাবরায় গিয়ে হোসিয়ারির ব্যবসা শুরু করেন। শিবব্রতই কবিরকে বলেন, বাবাকে কলকাতায় এনে চিকিৎসা করাতে। হাবরায় তার নিজের বাড়িতেই তাদের থাকতেও বলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সোমবার বৈধ ভিসা নিয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কলকাতা যান মহসিন কবির। কথা মতো ওঠেন শিবব্রতর বাড়িতে। মঙ্গলবার হাসপাতালে দেখাতে যাওয়ার জন্য বাবাকে নিয়ে হাবরা স্টেশনে রওয়ানা দিয়েছিলেন কবির।
মুহসিন কবীর জানান, শিবব্রতের বাড়ি থেকে কিছু দূর যেতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি থেকে কিছু লোক বেরিয়ে এসে কবিরের মুখ চেপে ধরে। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এরপরেই মুহসিনের বাবা বৃদ্ধ জাকির হোসেনের(৫৯) কাছে ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঐ দিন তিনি হাবরা থানায় অভিযোগ জানান।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করে। শিবব্রতর কথাবার্তায় জোরালো সন্দেহ হয় পুলিশের। গ্রেপ্তার করা হয় শিবব্রত চক্রবর্তীকে।
পুলিশের জেরার মুখে শিবব্রত জানান, বাংলাদেশ থেকে তাদের এ দেশে এনে অপহরণের ষড়যন্ত্র তারই ছিল। চিকিৎসার জন্য বেশি করে টাকাও নিয়ে আসতে বলেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আনিসুর মুহম্মদ গাজী ও আনোয়ার হোসেন নামে স্থানীয় দুই চিহ্নিত অপরাধীসহ আরও চার জনকে বাদুড়িয়ার আটুলিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই গ্রামেরই একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল কবিরকে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সিটিজিসান.কম/তানিন

