চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের ৮ পুকুর বেদখল!

ctg-zila-porishod-pukur-pic
চট্টগ্রাম ::
পুকুরগুলোর মালিক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। কিন্তু প্রভাবশালী সংগঠন ও ব্যক্তিরা বেদখল করে রেখেছেন। পুকুরগুলোর বেদখল ছাড়তে তাদের নোটিশ দিলে উল্টো তারা মামলা করে এর বিরুদ্ধে। আর তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। খবর ঢাকাটাইমসের। এর ফলে দখলদারদের হাতেই থেকে যাচ্ছে পুকুর। উচ্ছেদ করতে পারছে না প্রশাসন।

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের মালিকানার ৩৩টি পুকুরের মধ্যে এ রকম বেদখল হয়ে আছে আটটি। বাকি পুকুরগুলো লিজ দেয় জেলা পরিষদ, যেখান থেকে প্রতিবছর রাজস্ব আয় হয় সরকারের। কিন্তু বেদখল পুকুরগুলোর থেকে আসে না কোনো রাজস্ব।

বেদখল পুকুরগুলোর মধ্যে রয়েছে পটিয়ায় তিনটি, ফটিকছড়িতে দুটি, রাউজানে একটি, মিরসরাইয়ে একটি, হাটহাজারীতে একটি। জবরদখলে থাকা পুকুর সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সরোয়ার জাহান বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র এসব পুকুর দখল করে রেখেছে।

সরোয়ার জাহান বলেন, পুকুরগুলো উদ্ধারে নোটিশ দেয়া হলে প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ চক্রগুলো আইনের ফাঁক নিয়ে মামলা করে। মামলায় আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে জেলা পরিষদ পুকুরগুলো অনেক চেষ্টা করেও সংঘবদ্ধ চক্রের কবল থেকে মুক্ত করতে পারছে না। তবে এদের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ থেকে মামলা করা হয়েছে, যা আদালতে চলমান।

ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের প্রায় তিন একর আয়তনের ধুরং পুকুর আইনজীবী সমিতি দখল করে আছে অভিযোগ করে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এতে জড়িত রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। গত ১৮-২০ বছর ধরে তারা পুকুরটি দখলে রেকে ভোগ করে আসছে। পুকুরের চারপাশ ভরাট করে তারা দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত পুকুরের দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য একাধিক নোটিশ দেয়া হলেও সংগঠনের নেতারা তাতে কর্ণপাত করেনি।’

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রথম নোটিশ পেয়েই গত ৮-১০ বছর আগে আমার নামে আদালতে মামলা করেন তারা। ওই মামলায় আদালত পুকুর দখলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে পুকুরটি দখলে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদও আদালতে মামলা করেছে।’

একইভাবে ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরং রাঙামাটিয়া, নানুপুর, রাউজান উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের মহামুনি এলাকার মহামুনি পুকুর, মিরসরাই উপজেলা সদর, পটিয়া ও হাটহাজারী উপজেলায় আরও সাতটি পুকুর বেদখলে রয়েছে। তারা জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায়। জেলা পরিষদও দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা চলমান থাকায় পুকুরগুলো দখলে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না পরিষদ।

জেলা পরিষদের দখলে থাকা ২৮টি পুকুর ও ৭টি জলাশয় থেকে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জেলা পরিষদ ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৬ টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু বেদখলে থাকা পুকুরগুলো থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না জেলা পরিষদ। এসব পুকুর থেকে বছরে ২০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে ফটিকছড়ি উপজেলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি উত্তম কুমার মহাজনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে সমিতির সদস্য দিদারুল আলম বলেন, পুকুরটি জেলা পরিষদের হলেও ভোগদখলে রয়েছে অনেকে। পুকুরের চারপাশে রয়েছে দোকানপাট। পুকুর দখলে নিলে এসব দোকানপাটসহ বহু স্থাপনার ক্ষতি হবে। এসব রক্ষার জন্য আদালতে মামলা করা হয়। আদালত জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

একই কথা বলেন রাউজান মহামুনি পুকুর দখলকারীদের এক সদস্য প্রণয় বড়ুয়া ও মিরসরাই উপজেলা সদরে পুকুর দখলে রাখা সিরাজুল ইসলামও।

জেলা পরিষদের পুকুরগুলোর মধ্যে পটিয়ায় রয়েছে ১১টি, ফটিকছড়িতে ৩টি, রাউজানে ৩টি, মিরসরাইয়ে ৩টি, হাটহাজারীতে ২টি, সাতকানিয়ায় ১টি, বাঁশখালিতে ১টি, বোয়ালখালিতে ৩টি, চন্দনাইশে ১টি, আনোয়ারায় ২টি, লোহাগড়ায় ২টি, সীতাকুন্ডে ১টি।

সিটিজিসান.কম/রবি