জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ করেসপন্ডেন্ট ::
নির্বাচন মানেই উত্তাপ, উচ্ছাস ও গ্রামে গ্রামে ভোট উৎসব। কিন্তু আসন্ন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। কারণ তারা এই ভোটে ভোটার নয়। সাধারণ ভোটাররা ভোট দিয়ে যাদের জনপ্রতিনিধি করেছেন, সেই চেয়ারম্যান ও মেম্বরা জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
মৌলিক গনতন্ত্রের ধাচে অনুষ্ঠিত এই জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও মুষ্টিমেয় ভোটার ছাড়া কোন উৎসব নেই। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদ্বন্দিতা না থাকায় উৎসবে ভাটা পড়েছে। তাদের ভাষ্যমতে দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে আসে নি। তাই চোখে পড়ার মতো কোন উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, জানান, ২৮ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের কনক কান্তি দাস, সৃজনী এনজিওর নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ ও জাসদের সভাপতি ইমদাদুল হক।
তিনি আরো জানান, ১৫টি সাধারণ মেম্বর পদে ৭২ জন ও ৫টি সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর পদে ১৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনে ৬৭টি ইউনিয়নের ৮৭১ জন চেয়ারম্যন মেম্বর, ৬টি পৌরসভার ৭৮ জন মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ৬টি উপজেলার চেয়ারম্যন ও ভাইস চেয়ারম্যনসহ মোট ৯৬৭ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে মেম্বর পদে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ফলে দলের মেম্বর প্রার্থীদের মাঝে প্রকাশ্যে কোন কোন্দল দেখা না দিলেও মতবিরোধ তীব্রতর হচ্ছে। জানা গেছে, জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে যে ৭২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন, তাদের সবাই সক্রিয় ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত। খোজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামে গ্রামে এখনো কোন পোষ্টার চোখে পড়েনি। নেই কোন নির্বাচনী ক্যাম্প।
তবে প্রার্থীরা বলছেন, প্রতিক বরাদ্দ ও মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের পর তারা কোমর বেধে মাঠে নামবেন। এদিকে জেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে নানা হিসাব নিকাশ চলছে। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে মেম্বর ও চেয়ারম্যানদের ভোট টাকা দিয়ে কেনা হচ্ছে।
নির্বাচনবোদ্ধাদের মতে বিএনপি ও জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকলেও মুলত আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী কনক কান্তি দাসের পাল্লাই ভারি হবে। এই ক্ষেত্রে সৃজনীর নির্বাহী পরিচালক ও জাপা নেতা হারুন অর রশিদ মৃদু প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। অনেকের মতে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিভক্ত আওয়ামী লীগ যদি এক না হয়, তবে ফলাফল ভিন্ন রকম হলে কেও আবাক হবেন না।
সিটিজিসান.কম/রবি

