বিএনপিপন্থিরা নির্বাচনে নেই, বিএমএ নির্বাচনে শুধুই স্বাচিপ!

bma1

চট্টগ্রাম :: বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম শাখার সরকার দলীয় সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) দুটি পক্ষই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী! বিএনপিপন্থি’ চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) গত নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তারা সরে দাঁড়িয়েছে।

ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি ডা.খুরশিদ জামিল বলেন, ‘গত নির্বাচনের চরিত্র দেখে এবার আমরা সরে দাঁড়িয়েছি। তারা তাদের ইচ্ছামতো নির্বাচন কমিশন করে। এমন তামাশার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা তাদের বৈধতা দিতে চাই না।’

ড্যাব অংশ না নিলেও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে স্বাচিপের দুটি প্যানেল এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে। এক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএমএ চট্টগ্রামের বর্তমান সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। ডা. মুজিবুল হক খান গতবারের মতো এবারও সভাপতি পদে এবং ডা. ফয়সল সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তারা সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

অপর প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাচিপের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম, স্বাচিপ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখার সদস্য সচিব ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান। তারা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

মিনহাজুর রহমান ২০১২ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ডা. শেখ শফিউল আজম সভাপতি পদে ও ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও মিনহাজুর রহমান দুজনই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে এবার চট্টগ্রামে বিএমএ নির্বাচনে দুই পক্ষের সমর্থিত নেতারা পৃথক প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছে। স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ডা. মুজিবুল হক খান ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী হলেন অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান পক্ষের অনুসারী এবং ডা. শেখ শফিউল আজম-নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও মিনহাজুর রহমান হলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ অপর পক্ষের অনুসারী।

এদের মধ্যে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ পক্ষের অনুসারী নেতারা দুই পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্যানেল করতে মত দিয়েছেন। কিন্তু সমন্বয় করতে রাজি নন অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান পক্ষের অনুসারী নেতারা। তারা চায় ভোটের মাঠে লড়তে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ পক্ষের অনুসারী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ডা. শেখ শফিউল আজম বলেন, ‘আমরা যেহেতু একই দলের লোক তাই কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা প্যানেল করতে চাই।’

এ স্বাচিপ নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএমএ’র বর্তমান সভাপতি দুই মেয়াদে নেতৃত্বে ছিলেন। এরপর আবার কেনো তিনি অন্যজনকে সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন করবেন ?’

অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান পক্ষের অনুসারী প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডা.ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘শফিউল আলম-মিনহাজ প্যানেলের সাথে সমন্বয়-সমঝোতা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। শুধু চট্টগ্রামে নয়, ঢাকায়ও তাদের গ্রুপের সাথে একটি মেম্বার পদ নিয়েও আমরা সমঝোতা করবো না। সমঝোতার কথা দুর্বলরাই বলে।’

‘যারা পাঁচজন নিয়ে সভা করতে পারে না, চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ঢোকার সাহস পায় না তারা কীভাবে নির্বাচনে করবে’-এমন প্রশ্ন রেখে ফয়সল ইকবাল বলেন, ‘তারা নির্বাচনে ৩০ জন এজেন্ট বসাতে পারে কিনা আমার সন্দেহ।’

দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় না হলে নির্বাচনে মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদারের অফিসে গত রোববার এক পক্ষের কয়েকজন প্রার্থী সেখানে ভাঙচুর করে।

নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শফিউল আলম-মিনহাজ প্যানেলের নেতারা। ডা. মিনহাজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ডা. অধ্যাপক প্রদীপ দত্ত একটা প্যানেলের সদস্য পদের প্রার্থী। উনি নির্বাচন কমিশনের মেম্বার কীভাবে হয় ? একটি প্যানেলের প্রার্থী ডা. আকবর হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী ডা. শাহানারা চৌধুরী কীভাবে নির্বাচন কমিশনার হন ?’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ডা. মিনহাজ বলেন, ‘২০১২ সালের নির্বাচনে প্রার্থীরা বুথের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। ভোটাররা কাকে ভোট দিয়েছে মোবাইলে ছবি তুলে তা তাদের দেখাতে হয়েছিল। এমন নির্বাচন এবার আমরা চাই না। এবার কিন্তু আমরা পূর্ণ প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করছি। যেকোনো কিছু হতে পারে যা আগ থেকে বলা যায় না।’

এদিকে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিদ্রোহী প্রার্থী মিনহাজুর রহমানের পক্ষের লোকজনের সাথে স্বাচিপের মুজিব-শরীফ প্যানেলের পক্ষের লোকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মিনহাজের পক্ষে ভোট পড়া ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুপক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম ভোট গণনায় মিনহাজ ১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

সিটিজিসান.কম/রবি